উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দলের অন্দরে কড়া পদক্ষেপ নিল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দলের তিন মুখপাত্রকে আগামী ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড (Droop) করার সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। সাসপেন্ড হওয়া তিন নেতা হলেন কোহিনুর মজুমদার, ঋজু দত্ত এবং কার্তিক ঘোষ।
নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে আদি-নব্য দ্বন্দ্ব এবং নেতৃত্বের রণকৌশল নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে দলের বিরুদ্ধে জনসমক্ষে মুখ খোলায় (Anti-Occasion Feedback) শুক্রবার ঋজু দত্ত, কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, কোহিনুর মজুমদার, পাপিয়া ঘোষ এবং কার্তিক ঘোষকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছিল দল। কোহিনুর, ঋজু এবং কার্তিক সেই নোটিশের জবাব দিলেও, শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি জানিয়েছে যে তাঁদের উত্তর সন্তোষজনক নয়। কমিটির পক্ষে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়েছে, তাঁদের মন্তব্য দলের ঐক্য ও স্বার্থের পরিপন্থী, তাই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির এই কঠোর সিদ্ধান্তের পর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কোহিনুর মজুমদার। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘কৌরবদের মতো কেউ কেউ দলকে শেষ করে দিচ্ছেন।’ তাঁর আরও অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গত তিন বছর ধরে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। তিনি বিদ্রুপের সুরে দাবি করেন, ৬ বছর পর যখন তাঁর নিলম্বন তোলার সময় আসবে, তখন বর্তমান নেতৃত্বের অনেকেই আর দলে থাকবেন না।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে তৃণমূল মাত্র ৮০টি আসনে জয়ী হয়েছে, অন্যদিকে বিজেপি দখল করেছে ২০৭টি আসন। এই ভরাডুবির পর থেকেই দলের একাধিক নেতা ও মুখপাত্র সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। পাপিয়া ঘোষ এবং কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীর শোকজের জবাবে কী অবস্থান নিয়েছে দল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তিন মুখপাত্রকে বহিষ্কার করে তৃণমূল হাইকম্যান্ড স্পষ্ট করে দিল যে, পরাজয়ের আবহে দলের অন্দরে কোনও প্রকার বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না।
