উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের (WB Meeting Election 2026) পরবর্তী সময়ে ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, মঙ্গলবার দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পূর্বনির্ধারিত ধর্না কর্মসূচি আদৌ সফল হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দলনেত্রীর সঙ্গে কালীঘাটে (Kalighat) জরুরি বৈঠকে বসেন দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র ও সাংসদ দোলা সেন। মূলত দলের ভাঙন রুখতেই এই বৈঠক বলে দলীয় সূত্রে খবর।
রবিবার তৃণমূলের যে বৈঠক ছিল, তাতে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ৬০ জন উপস্থিত ছিলেন, যা পরিষদীয় দলে ফাটলের ইঙ্গিত দেয়। এরপর সই জাল-কাণ্ড নিয়ে দলের অস্বস্তি আরও বেড়েছে। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করা হলেও, বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা নিয়ে দলের অন্দরেই সন্দেহ দানা বেঁধেছে। কুণাল ঘোষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর দল ছাড়ার প্রবণতা একপ্রকার বিশ্বাসঘাতকতা।
এদিকে, ধর্না কর্মসূচি নিয়েও প্রশাসন ও শাসকদলের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, গভীর রাতে অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়ে বিরোধী স্বরকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের কাছ থেকে দুপুর ২টো থেকে ৫টা পর্যন্ত ধর্নার অনুমতি মেলায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ওয়াই চ্যানেলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। দলের প্রবীণ ও ঘনিষ্ঠ নেতারা বিদ্রোহীদের ফেরাতে মরিয়া চেষ্টা চালালেও, দলে ভাঙন আটকানো যাবে কি না তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। আপাতত বিদ্রোহী বিধায়কদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে না পারায় চরম উদ্বেগে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
