শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে চা বাগানে শোচনীয় ফল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC)। ৫০টি চা বাগানঘেরা নাগরাকাটা বিধানসভা এলাকায় হাতেগোনা দু’একটি বুথ ছাড়া বাকি সবক’টিতে বিজেপির জয়জয়কার। চা বাগানের ভোটে এমন হতশ্রী পারফরমেন্সে দলের তাবড় ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা এখন মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছেন না। স্বাভাবিকভাবেই বিরাট এই জয়ে উচ্ছ্বসিত গেরুয়া শিবির।
নাগরাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রটি নাগরাকাটা ও মেটেলি ব্লক মিলিয়ে ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং বানারহাট ব্লকের বানারহাট দুই নম্বর ও চামুর্চি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। সবমিলিয়ে বুথ ২৬০টি। এর মধ্যে বেশিরভাগই চা বাগান। লোকসভা নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জন বারলার বাড়ি লক্ষ্মীপাড়া চা বাগানে। এলাকাটি নাগরাকাটা বিধানসভার। সেখানকার চারটি বুথভিত্তিক ফলের রিপোর্ট বলছে, সবক’টিতেই বিজেপি লিড পেয়েছে।
বামনডাঙ্গা চা বাগানে গত বছরের ২৫ অক্টোবরের বন্যা পরিস্থিতির পর এবারের তৃণমূল প্রার্থী সঞ্জয় কুজুর দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সেখানকার ১৮২ নম্বর বুথ থেকে সঞ্জয়ের প্রাপ্ত ভোট ৪০৫। সেখানে বিজেপি প্রার্থী পুনা ভেংরা পেয়েছেন ৬১২টি ভোট। ভুটান সীমান্তের জিতি চা বাগানের ১০৪ নম্বর বুথে বিজেপি পেয়েছে ৬১৩টি ভোট। সেখানে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ১৭২টি। পাশের হোপ, নয়া সাইলি ও নাগরাকাটার মতো চা বাগানগুলির বুথেও তৃণমূল বিজেপির থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। মেটেলি ব্লকের বাগানগুলিতেও একই পরিস্থিতি।
নাগরাকাটা বিধানসভা এলাকায় বর্তমানে বন্ধ, রুগ্ন ও অচল চা বাগানের সংখ্যা সবথেকে বেশি। অচলাবস্থা কাটাতে না পারার ব্যর্থতা ঘাসফুল শিবিরকে সব বাগানেই ডুবিয়েছে। বানারহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বন্ধ রেডব্যাংক চা বাগানের তিনটি বুথের মধ্যে দুটিতেই ঘাসফুলের প্রার্থী পিছিয়ে। সেখানকার তিনটি বুথের মধ্যে ২০৭ নম্বর বুথে তৃণমূল ৪২৬টি ভোট পেয়েছে। বিজেপি পেয়েছে ৪৭০টি ভোট। ২০৯ নম্বর বুথে দুই দলের ভোট যথাক্রমে ৪১২ ও ৪৮৭। একমাত্র ২০৮ নম্বর বুথে তৃণমূল লিড পেয়েছে। পাশের বন্ধ আমবাড়ি চা বাগানেও তৃণমূলের পরিস্থিতি তথৈবচ। চারটি বুথের মধ্যে ২৩১ নম্বরে বিজেপি ৬৭২টি ভোট পেয়েছে, তৃণমূল শুধু ২০৯টি।
চা বাগান ঘাসফুল শিবিরের কাছে বরাবরই কাঁটা। আরএসএস-এর ধারাবাহিক নীরব সমাজকল্যাণমূলক কাজ, একলব্য স্কুলের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চা বাগানে গেরুয়া শিবিরের সাম্রাজ্য বিস্তারের পথকে ধীরে ধীরে মসৃণ করে তুলেছে। সেই চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবিলা করবে তা ঘাসফুল শিবির গত ১৫ বছরেও ঠিক করতে পারেনি।
