উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) কারা? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চরমে উঠেছে। তৃণমূলের নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক দখলের এই লড়াই এবার গড়িয়েছে খোদ জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবসের আগেই দিল্লিতে নিজস্ব একটি স্থায়ী কার্যালয় চালু করতে চলেছে ঋতব্রত-র শিবির। আইনি পরামর্শ ও আটঘাট বেঁধে নাম এবং প্রতীক দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতেই এই তড়িঘড়ি উদ্যোগ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ধরতে শুরু করে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দলে তীব্র বিরোধ বাধে এবং ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন শিবির গড়ে তোলেন। শুরু থেকেই নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল দাবি করে আসা এই শিবির মমতাকে ছাড়াই জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করে এবং চেয়ারপার্সনের পদ থেকে সরিয়ে অরূপ রায়কে সেই দায়িত্ব দেয়। যদিও কালীঘাটপন্থী তৃণমূল শিবির এদের কখনই গুরুত্ব দিতে নারাজ, কিন্তু দুই পক্ষই নিজেদের তৃণমূল দাবি করায় প্রতীক ও নাম নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র দ্বন্দ্ব।
উল্লেখ্য, জন্মলগ্নে আঞ্চলিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দলের নাম পাল্টে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ রাখেন। তবে দিল্লিতে এতদিন দলীয় কাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী কার্যালয় ছিল না। অতীতে মমতার সরকারি বাংলো, মুকুল রায় বা নাদিমুল হকের রাজ্যসভার সাংসদের বাংলো থেকেই দলের কাজ পরিচালিত হতো। এমনকি সাংসদ পার্থ ভৌমিকের বাড়িতেও কার্যালয় স্থানান্তরিত হয়েছিল, কিন্তু বিধানসভা ভোটের পর পার্থ তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ায় সেখান থেকেও কার্যালয় সরাতে হয়।
এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর কনট প্লেসে ইতিমধ্যেই একটি স্থায়ী কার্যালয়ের জায়গা চূড়ান্ত করেছে ঋতব্রতের শিবির। জোরকদমে চলছে তা চালুর প্রস্তুতিও। এপ্রসঙ্গে ঋতব্রত-তৃণমূলের চেয়ারম্যান অরূপ রায় জানিয়েছেন যে দিল্লিতে তাঁদের একটি পার্টি অফিস নেওয়া হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই উদ্বোধনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে নাম ও প্রতীক দখলের আইনি প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছে এই শিবির। যদিও এই পুরো ঘটনাকে তীব্র আক্রমণ করে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষের সুরে বলেছেন যে বিজেপির স্তাবক হয়ে অনেক কিছু করা যায় এবং ঋতব্রত আসলে শুভেন্দুরই আরেকটি মুখ, তাঁরা আদতে কোনো তৃণমূল নন।

