রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: পর্যটন মরশুমের গোড়াতেই যানজটে অবরুদ্ধ শৈলশহর দার্জিলিং। সমস্যা সমাধানে টাইগার হিলে (Tiger Hill) গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে শুক্রবার নয়া নির্দেশিকা জারি করল দার্জিলিং সদর ট্রাফিক পুলিশ। সেখানে বলা হয়েছে, শনিবার থেকে পর্যটকবাহী গাড়িগুলি ভোর সাড়ে চারটের মধ্যে টাইগার হিলে পৌঁছানো বাধ্যতামূলক। এরপরে আর কোনও গাড়ি টাইগার হিলে প্রবেশ করতে পারবে না। একইসঙ্গে যানজট সমস্যার বিহিত খুঁজতে দার্জিলিংয়ের মহকুমা শাসক বনমালী রায় সোমবার জেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন।
দার্জিলিংয়ের ভয়াবহ যানজট নিয়ে দুশ্চিন্তার মেঘ প্রশাসনিক মহলে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সোনাদার পর থেকে ঘুম হয়ে দার্জিলিং শহর পর্যন্ত যানজটে নাকাল হচ্ছেন পর্যটক থেকে সাধারণ মানুষ। এদিন কার্সিয়াং থেকে দার্জিলিং যাওয়ার পথে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) চিফ এগজিকিউটিভ অনীত থাপার কনভয় প্রায় দেড় ঘণ্টা যানজটে আটকে পড়ে। সোমবারের ওই বৈঠকে হিমালয়ান ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন কমিটি, গোর্খা একতা চালক সংগঠন সহ পাহাড়ের গাড়িচালকদের সংগঠনগুলিকে ডাকা হয়েছে। জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিক, জিটিএ, পরিবহণ দপ্তর, পুলিশ সহ অন্যান্য দপ্তরের আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মহকুমা শাসক।
শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিংগামী গাড়িগুলি সোনাদা পর্যন্ত নির্বিঘ্নে চলাচল করলেও ঘুমের আগে থেকে শুরু হয় যানজট। প্রায় ৮-১০ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে দীর্ঘ যানজটে পর্যটকদের গাড়ি সহ অন্যান্য যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের গাড়ি ৩-৪ ঘণ্টা আটকে থাকছে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, এই যানজটের আতঙ্কে বহু পর্যটক দার্জিলিং ভ্রমণের সিদ্ধান্ত বাতিল করছেন। সোমবারের বৈঠকে দার্জিলিংয়ের যানজট সমস্যা সমাধানের রুটম্যাপ খোঁজার চেষ্টা হবে বলে মহকুমা শাসক জানিয়েছেন।
যানচালকদের একাংশের বক্তব্য, ঘুম থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত যানজটের মূল কারণ টয়ট্রেন। ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বা হিলকার্ট রোডের একপাশ দিয়ে টয়ট্রেনের লাইন রয়েছে। আবার বেশ কিছু জায়গায় টয়ট্রেনের লাইন রাস্তা পারাপার করেছে। পর্যটন মরশুমে প্রচুর টয়ট্রেন চলাচল করে। ফলে টয়ট্রেন রাস্তা দিয়ে পারাপারের সময় গাড়িগুলিকে দাঁড়াতে হয়। আর এর জেরেই দীর্ঘ যানজট হয় বলে দাবি।
অন্যদিকে, এতদিন টাইগার হিলে গাড়ি যাওয়ার নির্দিষ্ট কোনও সমসয়ীমা ছিল না। কিন্তু সেক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর করা হল। পুলিশের কুপন নিয়ে পর্যটকবাহী গাড়িগুলি ভোর সাড়ে ৫টা বা তার পরেও টাইগার হিলে প্রবেশ করতে পারত। পুলিশ সাফ জানিয়েছে, শনিবার থেকে ভোর সাড়ে ৪টের মধ্যে গাড়িগুলিকে টাইগার হিলে পৌঁছাতে হবে। এরপর একটি গাড়িকেও আর ওই পথে চলতে দেওয়া হবে না। পুলিশের কুপন থাকলেও ভোর সাড়ে ৪টের পরে কোনও গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে নয়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।
