উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ হিমবাহ ধস ও হড়পা বানের গ্রাসে বিপর্যস্ত হিমালয় অঞ্চল। নেপালের ভয়াবহ ধ্বংসলীলার ছবি ও ভিডিও সমাজমাধ্যমের দৌলতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও, ঠিক একই বিপর্যয়ের মুখে পড়া তিব্বতের প্রকৃত চিত্রটা এখনও সম্পূর্ণ ধোঁয়াশায় ঘেরা (Tibet Flash Flood China Censorship)। সীমান্তে ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়লেও চিনা সমাজমাধ্যম থেকে বিপর্যয়ের সমস্ত ছবি এবং ভিডিও পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কড়াকড়ির কারণে তিব্বতের অভ্যন্তরে ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম তথ্যগত শূন্যতা।
নেপালের ক্ষেত্রে প্রথম থেকেই চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সমাজমাধ্যমে বহু ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কীভাবে পাহাড় থেকে নেমে আসা চার-পাঁচ তলা সমান জল-কাদার স্রোত মুহূর্তের মধ্যে গ্রাম ও বহুতল ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। শনিবার পর্যন্ত নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৬ এবং নিখোঁজ তিন হাজারের বেশি মানুষ, যার মধ্যে বহু ভারতীয় তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নেপাল সরকার প্রথমে বিদেশি সাহায্য নিতে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে ভারতের সুড়ঙ্গ-উদ্ধারক দল সহ আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দলকে অনুমতি দিয়েছে। বিদেশি সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমও সেখানে স্বাধীনভাবে পৌঁছাতে পেরেছে।
পক্ষান্তরে, তিব্বতের সীমানায় বিপর্যয়ের পর থেকেই কড়া সেন্সরশিপ জারি করেছে বেজিং। চিনা প্রশাসনের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেখানে মাত্র পাঁচ জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করা হয়েছে এবং সরকারিভাবে নিখোঁজের সংখ্যা ৫৫৮, যার মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। এর বাইরে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বা দুর্গতদের হাহাকারের কোনো তথ্য বা ছবি প্রকাশ্যে আসতে দেয়নি চিনা প্রশাসন। তিব্বতের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সূত্র থেকে আসা যে ভিডিওগুলিতে ধ্বংসলীলা বা ত্রাণের জন্য আর্জি দেখা গিয়েছিল, অভিযোগ উঠেছে সেগুলিও ইন্টারনেট থেকে ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে।
স্বাধীনভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি যাচাই করার কোনো সুযোগ নেই বিদেশি সাংবাদিকদের সামনেও, কারণ চিনা সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া সেখানে প্রবেশের জো নেই। সরকারি সংবাদমাধ্যমে কেবল প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উদ্ধারকাজের নির্দেশ এবং শীর্ষ মন্ত্রীদের বিবৃতির প্রচারটুকুই চালানো হচ্ছে। নেপালের উন্মুক্ত তথ্যপ্রবাহের বিপরীতে তিব্বতে তথ্য গোপনের এই রাজনীতিই এখন আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

