উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ হড়পার রেশ এখনও কাটেনি (Nepal Flash Flood)। এরই মাঝে এবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তিব্বত (Tibet Earthquake)। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (GFZ)-এর তথ্য অনুযায়ী, মাটি থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই ভূকম্পনের উৎসস্থল। তবে এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতির বা হতাহতের খবর মেলেনি।
এর ঠিক এক সপ্তাহ আগেই, গত ২৬ অগাস্ট তিব্বত-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে এক হিমবাহ ধসে পড়ার ফলে সৃষ্টি হয় প্রলয়ংকরী হড়পা। সেই জলপ্লাবনের তোড়ে ভেসে যায় বিস্তীর্ণ জনপদ। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, নেপালে এই বিপর্যয়ে অন্তত ১,২৫২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪,২০০ জনেরও বেশি মানুষ। অন্যদিকে, চিনের তিব্বত অংশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ এবং নিখোঁজ ৫৪৬ জন। নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন ১০৪ জন নেপালি নাগরিক, ৪৯ জন ভারতীয় এবং ৩৩ জন লাটভিয়ান পর্যটক। এই নিখোঁজ ভারতীয়দের বড় অংশই কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার পুণ্যার্থী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
হড়পার কারণে তিব্বতের গ্যিরং সীমান্ত পারাপারের প্রধান রাস্তাটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তা আবার সচল করেছে চিন। দুর্গত এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছানোর পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে উদ্ধারকারী দল, স্নিফার ডগ এবং অত্যাধুনিক জীবন-অনুসন্ধানকারী যন্ত্র। তবে অবিরাম বৃষ্টি, বিপজ্জনক পাহাড় এবং খরস্রোতা নদী উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বেজিং। নেপালের পাশে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত ডিএনএ শনাক্তকরণ বিশেষজ্ঞ, বেইলি ব্রিজ এবং জরুরি যোগাযোগ সরঞ্জাম পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে চিনের পক্ষ থেকে। বারবার ঘটে চলা এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে হিমালয় সংলগ্ন এই অঞ্চলে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

