উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) মাটিতে ভারত (INDIA) বিরোধীতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন জঙ্গি (militant) সংগঠন। এমনকী তাতে মহিলাদেরও আলাদা করে শাখা তৈরি করছে জঙ্গি সংগঠনগুলি। এমনটাই খবর গোয়েন্দা সুত্রে।
প্রথমে মহিলা সংগঠন তৈরি করে হিজবুল মুজাহিদিন। তারপর জইশ-ই-মহম্মদ, এবার মহিলা জঙ্গি শাখা তৈরি করে ফেলল লস্কর-ই-তৈবা।
অর্থাৎ পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় ভারত-বিরোধী তিনটি প্রধান জঙ্গি গোষ্ঠীই তাদের মহিলা সংগঠন গড়ে ফেলল। সম্প্রতি গোয়েন্দা সুত্রে জানা গিয়েছে, ‘দুখতারিন-ই-তৈবা’ নামে মহিলা সংগঠন গড়ে তোলার কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছে লস্কর-ই-তৈবা। এই মহিলা জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের আত্মঘাতী হামলার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। যাকে ফিদায়েঁ বলে উল্লেখ করা হয়। তবে হিজবুল বা জইশ তাদের নারী বাহিনীকে এখনও ‘সেই পর্যায়ে প্রস্তুত করেনি।
অন্যদিকে গোপনে বালোচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্টও (বিএলএফ) মহিলা ‘ফিদায়েঁ’ বাহিনী তৈরি করে ফেলেছে, সম্প্রতি সে খবরও প্রকাশ্যে এসেছে। পাকিস্তানের বালোচিস্তানের চাগাইয়ে পাক সেনার ফ্রন্টিয়ার কোর–এর সদর দপ্তরে হামলাও চালিয়েছেন জারিনা রফিক ওরফে মাহু ত্রাং নামে ওই মহিলা ফিদায়েঁ জঙ্গি সংগঠন। ওই ঘটনায় ঘুম উড়েছে পাক সরকার ও পাক সেনাবাহিনীর।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর ভারতের তরফে পাকিস্তানে অপারেশন সিঁদুর চালানো হয়। তারপর পাক সেনা এবং পাক গুপ্তচর সংস্থার (আইএসআই) তরফে জইশ এবং লস্কর জঙ্গি গোষ্ঠীকে নারী বাহিনী গড়ে তোলার নির্দেশ দেয়। সেইমতো জইশ ‘জামাত-উল-মোমিনাত’ নামে মহিলা বাহিনীও তৈরি করে ফেলেছে। এবার লস্করের তরফে তৈরি হল ‘দুখতারিন-ই-তৈবা’ নামে মহিলা সংগঠন।
মহিলাদের প্রথম সরাসরি সংগঠনে সামিল করেছিল হিজবুল মুজাহিদিন। তারা ‘বানাত-উল-ইসলাম’ নামে মহিলা সংগঠন তৈরি করেছিল। সংগঠনের সদস্যরা মূলত জিহাদের প্রচার, কাশ্মীরি মহিলাদের সংগঠনে নিয়ে আসা, সেনা বাহিনীর গুলিতে কোনও জঙ্গি নিহত হলে তার বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানানো এইসব কাজ করতেন। এমনকী প্রয়োজনে ‘হানি ট্র্যাপ’ হিসেবেও এই সংগঠনের সদস্যদের ব্যবহার করা হতো। তবে এসবের থেকে কয়েকধাপ এগিয়ে জইশ তাদের মহিলা সংগঠনকে কোনও পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে, তা দিল্লি বিস্ফোরণ-এর তদন্ত থেকে পষ্ট।
