তমালিকা দে, শিলিগুড়ি: বাসস্থান পরিবর্তন হতেই রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Royal Bengal Tigers) ‘নাগমণি’ ও ‘এস২’-এর খাবারের রুটিনেও এল পরিবর্তন। ‘অ্যানিমাল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে বৃহস্পতিবার দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক থেকে বেঙ্গল সাফারিতে আনা হয়েছে সাদা রয়েল বেঙ্গল টাইগার নাগমণিকে। অন্যদিকে, বেঙ্গল সাফারি থেকে দার্জিলিংয়ের চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার শীলার সন্তান এস২-কে।
নাগমণি পাহাড়ের ঠান্ডা আবহাওয়ায় অভ্যস্ত ছিল। তাই সমতলের আবহাওয়ায় তার কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর রাখছে সাফারির পশু চিকিৎসকের বিশেষ দল। অন্যদিকে, শিলিগুড়ি থেকে পাহাড়ে যাওয়া এস২ সেখানকার আবহাওয়ায় এখনও সুস্থই রয়েছে বলে খবর। বেঙ্গল সাফারিতে থাকার সময় সোমবার এস২-এর ‘মিল অফ’ রাখা হত। পাহাড়ে গিয়ে তা পরিবর্তন করে বৃহস্পতিবার করা হয়েছে। ঠিক একইভাবে, দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় নাগমণির ‘মিল অফ’ থাকত বৃহস্পতিবার। বেঙ্গল সাফারিতে এসে সেটা পরিবর্তন হয়ে সোমবার হয়েছে। এছাড়া দুই জায়গাতেই দুই নতুন অতিথিকে আপাতত কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
চিড়িয়াখানা সূত্রে খবর, শুক্রবার সকালে পাহাড়ি আবহাওয়ায় এস২-কে সুস্থ ও স্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা গিয়েছে। এদিন তাকে মাংস খেতে দেওয়া হয় এবং তা খেয়ে সে বিশ্রাম নিয়েছে। খাওয়ার পর তার শারীরিক কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি না, তাও পরীক্ষা করে দেখেছেন চিকিৎসকরা। দার্জিলিং চিড়িয়াখানার এক আধিকারিক জানান, এস২-কে আপাতত কোয়ারান্টিনে রাখা হয়েছে এবং সে সুস্থ রয়েছে।
অন্যদিকে, বেঙ্গল সাফারিতেও এদিন স্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা গিয়েছে নাগমণিকে। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে তার যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেজন্য সবরকম ব্যবস্থা রেখেছে সাফারি কর্তৃপক্ষ। নাগমণির দেখাশোনার জন্য দার্জিলিং চিড়িয়াখানা থেকে একজন ‘জু-কিপার’-কে পাঠানো হয়েছে। কয়েকদিন তিনি বেঙ্গল সাফারিতে নাগমণির দেখভালের দায়িত্বে থাকবেন। বেঙ্গল সাফারিতে কয়েকদিন কোয়ারান্টিনে থাকবে নাগমণি।
দুই চিড়িয়াখানাতেই নতুন অতিথিদের খাবারের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। কঠিন খাবার (সলিড) থেকে শুরু করে তারা কতটা জল পান করছে, সবদিকেই সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন চিকিৎসকরা।

