Dinhata | তিন দশকেও অমলিন স্বাদ, দিনহাটার আবেগে আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী সজলের গরম শিঙাড়া

Dinhata | তিন দশকেও অমলিন স্বাদ, দিনহাটার আবেগে আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী সজলের গরম শিঙাড়া

শিক্ষা
Spread the love


অমৃতা দে, দিনহাটা: সন্ধেবেলা মানেই আমাদের মন চায় তেলেভাজা, মোমো, চাউমিন ইত্যাদির স্বাদ পেতে। তবে যতই মোমো, চাউমিন, ধোসা এসব রকমারি স্বাদের খাবার থাকুক না কেন দিনহাটাবাসী (Dinhata) আজও সন্ধ্যা নামলেই ভিড় জমান সজলের শিঙাড়া খাওয়ার জন্য। এই শিঙাড়া তাঁদের কাছে যেন এক আবেগ। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দিনহাটার বাসিন্দারা এই স্বাদে মজে রয়েছেন। এত বছরে শিঙাড়ার স্বাদেও কোনও পরিবর্তন আসেনি। বাইরে খাস্তা আবরণ, ভেতরে আলুর পুরের সেই চেনা স্বাদ পেতে আজও ভিড় করেন স্থানীয়রা।

দিনহাটা শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সজল দাস। তবে তাঁর পুরো নামটি অধিকাংশ শহরবাসীর কাছেই অজানা। ১৯৯২ সালে শুরু হয়েছিল তাঁর এই যাত্রা। এত বছর পরেও তাঁর দোকানে তৈরি শিঙাড়ার জনপ্রিয়তা একই রয়ে গিয়েছে। শহরের ছোট থেকে বড় সকলের কাছে এই শিঙাড়া সজলের শিঙাড়া নামেই পরিচিত। প্রথমদিকে সজলের দোকানটি দিনহাটা শহরের শহিদ কর্নারের পাশে ছিল। ২০০০ সালে তাঁর দোকান চলে আসে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ অফিসের সামনে। প্রায় ২৬ বছর ধরে ওই জায়গাতেই দোকান চালাচ্ছেন তিনি।

যখন দোকান শুরু করেছিলেন তখন মাত্র ১ টাকায় এই শিঙাড়া পাওয়া যেত। সময় বদলেছে, সেই সঙ্গে বদলেছে বাজারদরও। ধীরে ধীরে শিঙাড়ার দাম দেড় টাকা, দুই টাকা থেকে বেড়ে দশ টাকা হয়েছে। তবে শিঙাড়ার স্বাদ আজও প্রথম দিনের মতোই রয়ে গিয়েছে। তাই আজও সন্ধের আগেই দোকান খোলার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের লাইন পড়ে যায়। অনেক সময় দেখা যায়, এই শিঙাড়ার জন্য ক্রেতারা প্রায় ঘণ্টাখানেক লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন।

সজল বলেন, ‘প্রথম দিন থেকে যেভাবে শিঙাড়া বানাতাম আজও সেভাবে বানাই। মানুষ যে স্বাদের জন্য এই দোকানে আসেন, তা বদলাতে চাই না।’ তিনি জানান, প্রতিদিন তাঁর দোকানে ৪০০ থেকে ৫০০টি শিঙাড়া বিক্রি হয়। কোনও কোনও দিন তার থেকেও বেশি বিক্রি হয়।

সন্ধেবেলা সজলের শিঙাড়া কিনতে এসেছিলেন তাপস দাস। লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, ছোটবেলায় তিনি বাবার সঙ্গে এই দোকানে আসতেন এবং শিঙাড়া কিনে নিয়ে যেতেন। এখন তিনি নিজের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। তাঁর কথায়, ‘ছোটবেলার সেই স্বাদ আজও রয়ে গিয়েছে। তাই বারবার এই দোকানে আসি।’ আরেক তরুণী টিনা রায়ের কথায়, ‘বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার আগে এই দোকান থেকে শিঙাড়া কিনে নিয়ে যাই।’

শুধু দিনহাটা শহর নয়, সন্ধ্যাবেলা আশপাশের গ্রাম থেকেও মানুষ আসেন এই দোকানে শিঙাড়া কিনতে। ৮ থেকে ৮০ সব বয়সের মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ে দোকানের সামনে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরে অনেক নতুন নতুন খাবারের দোকান খুললেও সজলের দোকানের শিঙাড়ার চাহিদা একইরকম রয়ে গিয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *