পূর্ণেন্দু সরকার ও অনীক চৌধুরী, জলপাইগুড়ি : তিস্তার অগভীরতা, গতিপথ পরিবর্তন, জলস্ফীতি, নদীভাঙন ও আসন্ন বন্যা পরিস্থিতি বিষয়ে খুঁটিনাটি তথ্য দুই রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছ থেকে বুঝে নিল জলশক্তিমন্ত্রক। শুক্রবার কেন্দ্রীয় জলশক্তিমন্ত্রকের ফ্লাড ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টিমের প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আপাতত তিস্তা নদীর বন্যা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সমস্ত ধরনের তথ্য দুই রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে আদান-প্রদান হবে। খোলা হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও।
বর্ষার মরশুমে তিস্তা অববাহিকায় সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপরতা শুরু করেছে কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসন। ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা অববাহিকার সংশ্লিষ্ট এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ১৬ জুলাই কেন্দ্রীয় জল কমিশনের তরফে এই ফ্লাড ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টিম (এফসিএমটি) গঠন করা হয়েছিল। শুক্রবার সেই দলের প্রথম ভার্চুয়াল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কলকাতার কেন্দ্রীয় জল কমিশনের তিস্তা ও ভাগীরথী-দামোদর বেসিন অর্গানাইজেশনের মুখ্য বাস্তুকার। গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসন, জলসম্পদ, সেচ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় জল কমিশন (সিডব্লিউসি), এনএইচপিসি এবং তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল তিস্তা অববাহিকার জলাধারগুলির বর্তমান পরিস্থিতি। জলাধারে এখন ঠিক কতটা জল রয়েছে, জল সংরক্ষণের পরিমাণ কত, কতটা জল প্রবেশ করছে এবং কতটা ছাড়া হচ্ছে— এই সমস্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মধ্যে সময়মতো আদান-প্রদান হচ্ছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হয়। জলাধারের গেট পরিচালনা এবং জল ছাড়ার তথ্যের পাশাপাশি নির্ধারিত ‘রুল কার্ভ’ কতটা মেনে চলা হচ্ছে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। গত বর্ষায় জলাধারগুলিতে রুল কার্ভ অনুসরণের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চলতি মরশুমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া বন্যার পূর্বাভাস ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলির বিপদসীমা এবং সতর্কসীমার বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। জলপ্রবাহ নির্দিষ্ট সীমায় পৌঁছালে কীভাবে দ্রুত সতর্কবার্তা জারি করা হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বর্তমান ও আগামী দিনের বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি নিয়েও এদিন বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়। মৌসুমি ও মাসিক বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস, সম্ভাব্য আবহাওয়াগত পরিস্থিতি এবং তার প্রভাবে নদীতে জলপ্রবাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেন বিশেষজ্ঞরা। ক্যাচমেন্ট এলাকার প্রতিক্রিয়া এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হয়। আগের বছরের একই সময়ের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান জলস্তরের তুলনা করে আগামী দিনে জল ছাড়ার বিষয়ে আগাম পরিকল্পনা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সেচ দপ্তরের উত্তর-পূর্ব বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক জানান, তিস্তা অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র ও দুই রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, ‘সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হবে। তিস্তা অববাহিকায় ভারী বৃষ্টির পর জল ছাড়ার কারণে নীচু এলাকায় যাতে বন্যার আশঙ্কা তৈরি না হয়, তার জন্য আগাম সতর্কতা ও সঠিক সময়ে তথ্য বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বন্যা নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য বিষেয়ও আলোচনা হয়।’

