উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ভরা বর্ষার মরশুমে ফি বছর গোটা রাজ্যের বাজার যে রূপোলি শস্যে ছেয়ে যায়, এবছর তার ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা (Hilsa fish scarcity West Bengal)। শহর বা শহরতলির বাজারে যা বা যা-ও বা একটু মিলছে, তার বড় অংশই চালানি কিংবা কোল্ড স্টোরেজের মাছ। কিন্তু চলতি মরশুমে বাংলার বঙ্গোপসাগর থেকে ধরা আসল টাটকা ইলিশ ঠিক কোথায় গেল? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আপামর বাঙালি খাদ্যরসিকের মনে।
মৎস্যজীবী সংগঠনগুলির সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত ডায়মন্ড হারবার, কাকদ্বীপ ও দীঘার সমুদ্র থেকেই বাংলার বাজারে বেশিরভাগ ইলিশ আসে। কিন্তু চলতি মরশুমে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ইলিশের জোগান প্রত্যাশার তুলনায় অত্যন্ত কম। বারবার খারাপ আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টি, নিম্নচাপ এবং প্রতিকূল সমুদ্র পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কাকদ্বীপ ফিশারম্যান অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজন মাইতি পিটিআই-কে (PTI) জানিয়েছেন, জুন থেকে অগাস্ট পর্যন্ত আবহাওয়া এতটাই প্রতিকূল ছিল যে ট্রলারগুলি নিয়মিত গভীর সমুদ্রে যেতে পারেনি। এর ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্যজীবীরা। তাঁর কথায়, হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পরিবর্তে বারবার নিম্নচাপের জেরে উত্তাল সমুদ্র মাছ ধরার কাজে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে। ট্রলারগুলি সমুদ্রে পর্যাপ্ত দিন থাকতে না পারায় ইলিশের জোগান তলানিতে ঠেকেছে। এছাড়া আবহাওয়ার পাশাপাশি সমুদ্র ও নদীর জলপ্রবাহের পরিবর্তনের কারণেও উপকূল ও মোহনা এলাকায় ইলিশের স্বাভাবিক গতিবিধি বিঘ্নিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাধারণত বর্ষার মরশুমে রাজ্যে ইলিশের চাহিদা তুঙ্গে থাকে। কিন্তু চলতি সিজনে এখনও পর্যন্ত ইলিশের উৎপাদন মাত্র ২০-২৫ হাজার টনের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। অথচ গত বছর এই একই সময়ে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০ হাজার টন! স্থানীয়ভাবে টাটকা মাছের জোগান অত্যন্ত সীমিত থাকায় বাজারে ইলিশের চড়া দামও পকেটে টান ধরাচ্ছে।
আগামী দিনে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদী মৎস্যজীবীরা। আবহাওয়া অনুকূলে এলে আরও বেশি সংখ্যক ট্রলার গভীর সমুদ্রে পাড়ি দিতে পারবে এবং বাজারে ইলিশের জোগান কিছুটা বাড়তে পারে বলেই আশা করছেন তাঁরা।

