মেখলিগঞ্জ: কোচবিহার জেলার আন্তর্জাতিক তিনবিঘা করিডরে (Teen Bigha border) বর্ডার রিট্রিট প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের আপত্তিতেই বন্ধ হয়েছে এই বর্ডার রিট্রিট। স্বাভাবিকভাবেই, রিট্রিট বন্ধ নিয়ে হতাশ তিনবিঘা করিডর ভ্রমণে আসা বিভিন্ন পর্যটক থেকে স্থানীয় মানুষ।
তিনবিঘা করিডর চালু হওয়ার পর থেকে সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর বর্ডার রিট্রিটই ছিল পর্যটকদের কাছে মূল আকর্ষণের বিষয়। পর্যটক থেকে স্থানীয়রাও দূরদূরান্ত থেকে এই করিডর ভ্রমণে আসতেন। করিডরের চারদিক ঘুরে দেখার পর দিনের শেষে তাঁরা বর্ডার রিট্রিট দেখার জন্য অপেক্ষা করতেন। বর্তমানে সেটি বন্ধ থাকার কারণে হতাশ পর্যটক থেকে স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা সৌরভ রায় বলেন, ‘রিট্রিট বন্ধ। পর্যটকরা দিন-দিন এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। যার পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে এলাকার ব্যবসায়ীদের ওপর। পর্যটকরা যত বেশি সময় সেখানে কাটাবেন, ততই ব্যবসায়ী ও এলাকার অর্থনৈতিক লাভ হবে। তাই পুনরায় রিট্রিট চালু ও করিডরে ছবি তোলার বিষয়টি চালু করা উচিত বলে মনে করি।’
বর্তমানে করিডরে নিয়মিত ভিনদেশের নাগরিক এবং পর্যটকরা এলেও, তাঁদের মনোরঞ্জনের জন্য তেমন কিছু সেখানে নেই। যা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকার মানুষও। মনর্ষি রায় বলেন, ‘তিনবিঘায় আন্তর্জাতিক বিষয়ে জটিলতা রয়েছে। বাংলাদেশের আপত্তিতেই সেই সময় রিট্রিট বন্ধ হয়েছিল। রিট্রিট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তটি সরকারকেই নিতে হবে। রিট্রিট দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ সেখানে ভিড় করতেন। করিডরে যত পর্যটক আসবেন, তত স্থানীয় অর্থনীতির উন্নতি হবে।’
আগে তিনবিঘা করিডরে বিএসএফ জওয়ানদের জাতীয় পতাকা নামানোর দৃশ্য, অর্থাৎ ‘বর্ডার রিট্রিট’ দেখার জন্যই বিকেলের দিকে মানুষ ভিড় করতেন। কিন্তু বাংলাদেশের আপত্তিতে সেটা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বর্ডার রিট্রিটের সময় করিডরের দু’পাশে থাকা ভারতীয় লোহার গেট কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হত। ওই সময়টুকু করিডরের উপর দিয়ে বাংলাদেশের মানুষজনেরও চলাচল বন্ধ থাকত।
এ নিয়ে আপত্তি উঠেছিল ওই দেশের তরফে। তারপর থেকেই বিএসএফের তরফে এই বর্ডার রিট্রিট বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে সূত্রের খবর। অনেকে বলেন, পূর্বে তিনবিঘা করিডরে ভারত ভূখণ্ডে পর্যটকদের ছবি তোলার ক্ষেত্রে তেমন বিধিনিষেধ ছিল না। করিডরের গেট অবধি ভারতীয় সীমান্ত পর্যন্ত যেতেও কোনও অসুবিধা হত না। কিন্তু বর্তমানে ছবি তোলার নিষেধাজ্ঞার কথা সাইনবোর্ডে উল্লেখ করে লাগিয়ে রাখা হয়েছে। করিডরের ভিতরেই যে ছোট্ট পার্কের মতো জায়গা রয়েছে সেটিরও বেহাল অবস্থা। তাই পর্যটকদের করিডরের পাশে একটু দাঁড়ানো ছাড়া বর্তমানে আর কিছুই করার নেই। এই বিষয়ে বিএসএফের উত্তরবঙ্গের এক আধিকারিক বলেন, ‘এই বিষয়ে অবগত ছিলাম না, খোঁজ নেওয়া হবে।’
