উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ পহেলা ফাল্গুন। বসন্তের আগমনে প্রকৃতির রূপ বদলালেও বাঙালির প্রিয় শীত এবার সত্যিই বিদায়পথে। ভোরের হালকা কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসের আমেজ থাকলেও বেলা বাড়লেই চড়ছে রোদের তাপ। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিনে রাজ্যজুড়ে রাতের তাপমাত্রা (Climate Replace) ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। অর্থাৎ, সপ্তাহান্তেই শীত কার্যত উধাও হয়ে বসন্তের উষ্ণতা পুরোদমে অনুভূত হবে।
চড়ছে পারদ, উধাও উত্তুরে হাওয়া
হাওয়া অফিসের মতে, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা কনকনে ঠান্ডা উত্তুরে হাওয়ার প্রভাব অনেকটাই কমেছে। ফলে সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ—উভয় তাপমাত্রাই এখন ঊর্ধ্বমুখী। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী সপ্তাহের শুরুতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে পৌঁছে যেতে পারে। বর্তমানে পারদ স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা নীচে থাকলেও, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা স্বাভাবিক স্তরে ফিরে আসবে।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া (North Bengal Climate Replace)
দক্ষিণবঙ্গে গরমের আমেজ শুরু হলেও উত্তরবঙ্গে এখনও হালকা শীতের ছোঁয়া রয়ে গিয়েছে। ডুয়ার্স ও পার্বত্য এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৫ ডিগ্রির মধ্যে থাকলেও সেখানেও ধীরে ধীরে পারদ চড়তে শুরু করবে। আপাতত কুয়াশার জন্য কোনও বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়নি।
কলকাতার পরিস্থিতি (South Bengal Climate Replace)
কলকাতার আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকবে। শুক্রবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ১.৫ ডিগ্রি কম। তবে আজ শনিবার থেকেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। আবহবিদদের মতে, আগামী কয়েকদিনে কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৮ থেকে ৩০ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করবে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৮২ শতাংশ হওয়ায় দুপুরের দিকে কিছুটা অস্বস্তিও হতে পারে। আগামী পরশু একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা প্রবেশের সম্ভাবনা থাকলেও বঙ্গে তার বড় কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
সব মিলিয়ে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকেই কড়া নাড়ছে গ্রীষ্ম। আবহবিদদের ইঙ্গিত, শীতের আমেজ কাটিয়ে এবার গোটা বাংলা প্রস্তুত হচ্ছে উষ্ণ বসন্ত ও আসন্ন প্রখর গরমকে স্বাগত জানাতে।
