Tea Business | দেশের চা শিল্পে নয়া বিপদ কেনিয়া

Tea Business | দেশের চা শিল্পে নয়া বিপদ কেনিয়া

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


নাগরাকাটা: নেপালের পর কেনিয়া। দেশীয় চায়ের নয়া সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে আফ্রিকার দেশটি থেকে আমদানির পরিমাণ। গত বছর কেনিয়া থেকে আমদানি করা চায়ের পরিমাণ একধাক্কায় বেড়েছে ২৮৮ শতাংশেরও বেশি। ভারতের চা শিল্পের স্বার্থে ওই আমদানি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ক্ষুদ্র চা চাষিদের সর্বভারতীয় সংগঠন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিস্টা)। সংগঠনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ‘কেনিয়ার চায়ের গুণগতমান ভালো নয়। এখানকার চায়ের সঙ্গে ওই চা মিশিয়ে ঘরোয়া বাজারে ছাড়া হচ্ছে। এমনকি ভারতীয় ব্র্যান্ডের মোড়কে আবার রপ্তানিও (রি-এক্সপোর্ট) করা হচ্ছে ভিনদেশে। ফলে ক্রেতাদের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উত্তরবঙ্গ, অসম সহ গোটা দেশের চা শিল্প।’

কেনিয়ার টি বোর্ডের তথ্য বলছে, ২০২৪-এর জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সেদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়েছিল ১৩.৭১ মিলিয়ন কিলোগ্রাম চা। ২০২৩ সালেও তার পরিমাণ ছিল ৩.৫৩ মিলিয়ন কিলোগ্রাম। সেবছর নেপাল থেকে রপ্তানি হওয়া চায়ের পরিমাণ ছিল ১৩.৬৬ মিলিয়ন কিলোগ্রাম। ২০২৪-এ নেপাল থেকে আসা চায়ের সরকারি তথ্য এখনও জানা না গেলেও চা বণিকসভাগুলির দাবি পরিমাণ বাড়বে বই কমবে না।

চা মহলের অনেকের ধারণা, কেনিয়ায় ২০২১ সালে চায়ের ন্যূনতম নিলামমূল্য নীতি গৃহীত হওয়ার পর থেকে ১০০ মিলিয়ন কিলোগ্রাম অবিক্রীত থেকে গিয়েছে। ওই নিম্নমানের চা-ই এদেশে পুশিং-এর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁরা। কেনিয়ার নিলামকেন্দ্রটি মোবাসায়। সেখানে শুধু সে দেশেরই নয়, বুরুন্ডি, উগান্ডা, তানজানিয়ার মতো আশপাশের দেশগুলির চা-ও নিলামে ওঠে। কেনিয়া থেকে রপ্তানি হওয়া সস্তার ওই চায়ে অন্য দেশগুলির চা-ও মিশে থাকতে পারে বলে অনুমান।

সিস্টা-র তরফে কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে তাতে আশঙ্কা করা হয়েছে, কেনিয়া সহ নেপাল থেকে এমন অনিয়ন্ত্রিত রপ্তানি হলে উদ্বৃত্ত জোগানের সমস্যা আরও প্রকট হবে। উৎকর্ষ বজায় রাখা ও সেই সঙ্গে বাড়তি জোগান আটকাতে টি বোর্ড থেকে এবার শীতকালীন উৎপাদন বন্ধ করার সময় এগিয়ে ৩০ নভেম্বর থেকে করা হয়। কবে থেকে নতুন মরশুম শুরু হবে, তা জানানো হয়নি। সিস্টার বক্তব্য, একদিকে ঘরোয়া উৎপাদনে লাগাম টানার চেষ্টা ও অন্যদিকে পাইকারি হারে নিম্নমানের চায়ের আমদানি, দুটি স্ববিরোধী বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না। এর ফলে বড় বাগানগুলির পাশাপাশি ক্ষুদ্র চা চাষিরাও গভীর সংকটের মুখে। বিজয়গোপাল বলেন, ‘ভারতীয় চা-কে খাদ্য সুরক্ষাবিধির যাবতীয় মানদণ্ড মেনে চলতে হয়। অন্যদিকে, কেনিয়া বা নেপাল থেকে আসার সময় বিনা পরীক্ষাতেই বাজারে ঢুকে যাচ্ছে। এতে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী বা রপ্তানিকারীরা হয়তো লাভবান হচ্ছেন। তবে চরম মূল্য চোকাতে হচ্ছে ঘরোয়া চা শিল্পকে। আশা করছি কেন্দ্র দ্রুত পদক্ষেপ করবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *