Manikchak । আবাসের টাকা উপপ্রধানের স্বামীর অ্যাকাউন্টে

Manikchak । আবাসের টাকা উপপ্রধানের স্বামীর অ্যাকাউন্টে

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


আজাদ,মানিকচক: আবাস যোজনা দুর্নীতিতে এবার নাম জড়াল নাজিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের। বিজেপি পরিচালিত নাজিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের অট্টালিকাসম বাড়ি থাকা সত্ত্বেও আবাস যোজনার চূড়ান্ত তালিকায় নাম উপপ্রধান লক্ষ্মী মণ্ডলের স্বামী কৃষ্ণ মণ্ডলের। ইতিমধ্যেই তাঁর স্বামীর অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকাও ঢুকেছে।

বিরোধীদের অভিযোগ, বেআইনিভাবে আবাস যোজনায় স্বামীর নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন পঞ্চায়েত প্রধান। অবিলম্বে আবাস যোজনার টাকা ফেরতের দাবি করেন মানিকচকের বিধায়ক সাবিত্রী মিত্র। তবে উপপ্রধান লক্ষ্মী মণ্ডলের দাবি, স্বামীর সঙ্গে তাঁর বর্তমানে কোনও সম্পর্ক নেই। বিজেপি নেতৃত্বের সুপারিশে আবাস যোজনায় নাম ঢুকেছে তাঁর স্বামীর।

মানিকচক ব্লকের নাজিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির উপপ্রধান প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল,স্বামী কৃষ্ণ মণ্ডল লক্ষীকোল গ্রামের বাসিন্দা। ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে বাংলার বাড়িতে নাম রয়েছে কৃষ্ণ মণ্ডলের। এমনকি তাঁর ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা, পেয়েছেন শংসাপত্রও। নাজিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের লক্ষীকোলে দুইতলা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তাঁর নাম তালিকায় এল তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। স্থানীয় বাসিন্দারা এবিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির দাবি, বাংলার আবাস যোজনা নিয়ে মুখ খুললেই আমাদের উপর আক্রমণ হবে। এখানে টাকার বিনিময়ে বাড়ি দেওয়া হচ্ছে। এলাকায় বহু ব্যক্তির পাকা ও দুইতলা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও আবাসের তালিকায় নাম রয়েছে। উপপ্রধান নিজের প্রভাব খাটিয়ে সমস্ত সরকারি পরিষেবা নিজের বাড়িতে নিয়েছেন। তিনি তদন্ত থেকে বাঁচতে নানারকম বাহানা করছেন।

বিষয়টি জানা মাত্রই সরব হয়েছেন মানিকচকের তৃণমূল বিধায়ক সাবিত্রী মিত্র। তিনি বলেন, ‘বিজেপির উপপ্রধান পদে থাকাকালীন কীভাবে বাংলার বাড়ি তালিকায় নাম থাকে। আমি বিডিওকে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’ এমনকি বরাদ্দ হওয়া টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন তিনি। মালদা জেলার বামনেতা দেবজ্যোতি সিনহা বলেন, উপপ্রধানের দুইতলা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও বাংলার বাড়ির টাকা পেয়েছেন। এই দুর্নীতিতে বিজেপি ও তৃণমূলের সদস্যরা যুক্ত।

যদিও অবৈধভাবে বাড়ি পাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন নাজিরপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের স্বামী কৃষ্ণ মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘আমার নিজস্ব কোনও বাড়ি নেই। আমি মায়ের বাড়িতে থাকতাম, তিনি আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে সামান্য জায়গা দিয়েছেন। সেখানে আমি বাংলার বাড়ির টাকায় বাড়ি তৈরি করছি। আমার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা মণ্ডেলের সাথে দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে কোনও সম্পর্ক নেই। সে বাবার বাড়িতে থাকে।’ উপপ্রধান প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল বলেন, ‘শুনেছি বাড়ি পেয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাঁর নাম দেওয়া হয়েছিল। আমি কোনওভাবে যুক্ত নই,তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই।’

বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে মানিকচক ব্লক প্রশাসন। শুক্রবার কৃষ্ণ মণ্ডলের বাড়ি পরিদর্শনে যায় ব্লক প্রশাসনের দুই আধিকারিক। মানিকচকের বিডিও অনুপ চক্রবর্তী বলেন, ‘বিষয়টি জানা মাত্রই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। উপপ্রধানের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *