নাগরাকাটা: এক পুজো পেরিয়ে দরজায় কড়া নাড়ছে আরেক পুজো। কিন্তু বোনাস-বিবাদের (Tea backyard bonus dispute) বিষবাষ্পে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) চা বলয়ে আশঙ্কার কালো মেঘ এখনও কাটেনি। গত বছর পুজোর মুখে বোনাস টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে বন্ধ হয়ে যাওয়া চামুর্চি, রেড ব্যাংক কিংবা সুরেন্দ্রনগরের মতো একাধিক বাগান আজও খোলেনি। কিস্তিতে বোনাস মেটানোর প্রতিশ্রুতি মিললেও বহু বাগানে বকেয়া থেকেই গিয়েছে। দিনকয়েক আগেও দেবপাড়া চা বাগানে গত বছরের বোনাসের একাংশ না মেলায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন শ্রমিকরা। এই তপ্ত আবহে নবান্নের শ্রম দপ্তর সোমবার একতরফা অ্যাডভাইজরি জারি করে জানিয়ে দিল— আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত বাগানে ২০ শতাংশ হারেই বোনাস দিতে হবে।
সরকারি নির্দেশকে শ্রমিক মহল দু’হাত তুলে স্বাগত জানালেও চরম অসন্তোষ দানা বাঁধছে মালিকপক্ষে। ডুয়ার্সের সিংহভাগ বাগান ২০ শতাংশ বোনাস দিতে সক্ষম হলেও, তথাকথিত রুগ্ন বাগানগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রমাদ গুনছেন পরিচালকরা। ২০২৪ সাল পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে রুগ্ন বাগানগুলিকে নির্দিষ্ট হারে ছাড় দেওয়ার প্রথা ছিল। গত বছর সেই নিয়মে দাঁড়ি পড়ার পর থেকেই অচলাবস্থার সূত্রপাত। চা বণিকসভা আইটিপিএ-র উপদেষ্টা অমিতাংশু চক্রবর্তীর সোজাসাপ্টা বক্তব্য, ‘বোনাসকে কেন্দ্র করেই গত বছর চামুর্চি বন্ধ হয়েছিল। আক্ষেপের হলেও চরম সত্য যে বাগানটি আজও খোলেনি। তার মাঝে ফের আরও একটি অ্যাডভাইজরি চাপিয়ে দেওয়া হল!’
শ্রমিকদের পালটা যুক্তি, ঘাম ঝরানো মেহনতে কোনও রুগ্ন বা সুস্থ ক্যাটিগরি হয় না। উৎসবের মুখে এই অতিরিক্ত অর্থটুকু ডুয়ার্সের চা শ্রমিকদের কাছে শুধু আর্থিক পাওনা নয়, চরম এক আবেগ। ফলে প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে। শাসকদলের শ্রমিক সংগঠনের চেয়ারম্যান তথা সাংসদ মনোজ টিগ্গা অবশ্য কড়া সুরেই বলেন, ‘বোনাস নিয়ে কোথাও কোনও সমস্যা তৈরি হলে শ্রম দপ্তর নিশ্চয়ই কড়া পদক্ষেপ করবে। আমাদের স্পষ্ট দাবি, সরকারি অ্যাডভাইজরি সবাইকে মানতেই হবে।’
এরই মধ্যে গত ৩ ডিসেম্বর থেকে বন্ধ আমবাড়ি বাগান পুজোর আগে খোলার দাবিতে আন্দোলন তীব্র হচ্ছে। জলপাইগুড়িতে ডেপুটি শ্রম কমিশনারের দপ্তরে হওয়া ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে মালিকপক্ষ আগামী ১৮ নভেম্বর বাগান খোলার প্রস্তাব দেওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। বিজেপি প্রভাবিত ভারতীয় টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের বানারহাট ব্লক সভাপতি জয়রাজ বিশ্বকর্মা বলেন, ‘মালিকপক্ষ পুজোর আগে এক পক্ষের বকেয়া মজুরি ও কর্মীদের এক মাসের বেতন দিয়ে পুজোর পরে বাগান খোলার কথা বলেছে। কিন্তু আমাদের দাবি পরিষ্কার, উৎসবের আগেই বাগান খুলতে হবে।’ ফলে বোনাস আর বাগান খোলার দড়ি-টানাটানিতে উত্তরের চা বলয় ফের এক তীব্র সংঘাতের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।

