উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: তারাপীঠের ‘বিদেশিনী’ হোটেলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের (Tarapith Resort Fireplace) ঘটনায় এবার গ্রেপ্তার করা হল হোটেল মালিকের বাবা প্রবীর পালকেও (Proprietor’s Father Arrested)। সোমবার মধ্যরাতে তারাপীঠ থানার পুলিশ তাঁকে পাকড়াও করে। উল্লেখ্য, তাঁর ছেলে তথা হোটেলের মূল মালিক কল্যাণ পালকে আগেই গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, বাবা-ছেলে মিলেই ওই হোটেলটি পরিচালনা করতেন।
সোমবার ভোরে তারাপীঠ থানার ঢিলছোড়া দূরত্বে অবস্থিত ওই হোটেলটিতে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড। ফাইবারের অন্দরসজ্জা থাকায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো হোটেলে ছড়িয়ে পড়ে। শর্ট সার্কিটের পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় অন্ধকার নেমে আসে এবং হোটেলের জরুরি বেরোনোর পথ চেনা কঠিন হয়ে পড়ে। রিসেপশনের দিকেই আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে ভয়াবহ বিপত্তির মুখে পড়েন আবাসিকেরা।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত দুই শিশু সহ মোট ৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে, যার মধ্যে ৫ জনই মেঘালয়ের একই পরিবারের সদস্য। তাঁরা হোটেলের শীর্ষতলে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দমকল ও তারাপীঠ-রামপুরহাট থানার পুলিশ এসে ২২ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও ৯ জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সময় হোটেলে মোট ৪৩ জন উপস্থিত ছিলেন। অধিকাংশের খোঁজ মিললেও কয়েকজন এখনও নিখোঁজ। প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা পিছনের পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে ডুবুরি (Divers) নামিয়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
একই সঙ্গে হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আইনমাফিক ছিল কি না এবং আবাসিকদের অভিযোগ অনুযায়ী পিছনের দরজাটি বন্ধ কেন রাখা হয়েছিল, সে সব খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

