উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: শারদোৎসবের (Durga Puja) আবহে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে বামেদের বইয়ের স্টলে ভাঙচুরের ঘটনা। কলকাতা থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুজোমণ্ডপের কাছাকাছি থাকা বামেদের বুকস্টলে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে সাম্প্রতিক দিনগুলিতে। বিশেষ করে সপ্তমীর রাতে যাদবপুরে বামেদের দুটি স্টল গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। আর এই প্রেক্ষাপটেই এবার মুখ খুললেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)।
অষ্টমীর সকালে মণ্ডপে গিয়ে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। ক্ষোভপ্রকাশ করে স্বপনবাবু স্পষ্ট ভাষায় জানান, বামেদের বুক স্টলে হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই ঘটনায় মাথা নত হয়ে গিয়েছে। একটা জায়গায় হলে তাও বোঝা যেত, কিন্তু তিন-চারটে জায়গায় এমন ঘটনা ঘটেছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিরোধের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “বামেদের সঙ্গে আমাদের একটা নৈতিক বিবাদ আছে। কিন্তু তা বলে বই বিক্রি করতে দেবে না? তারা কারা? কে এই অধিকার দিয়েছে। এটা নিন্দনীয়। আমি লজ্জিত। এটা যেন কোনওদিন না হয়।”
উল্লেখ্য, এই সমস্ত ভাঙচুরের নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাম শিবির। এই প্রসঙ্গে স্বপন দাশগুপ্ত পালটা প্রশ্ন তোলেন, “আমাদের নামে এগুলো করছে কে? কে সাহস দিয়েছে তাঁদের?”
বামেদের বুকস্টলে অর্থমন্ত্রীর এই প্রতিবাদের পরই তাঁকে নিশানা করতে ছাড়েননি সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ। তীব্র কটাক্ষ করে শতরূপ জানান, এই সমস্ত ঘটনার সূত্রপাত তো বিধানসভার ভেতর থেকেই হয়েছিল। আজ থেকে ঠিক এক মাস আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন যে পুজোয় বামেদের কোনো বুক স্টল করতে দেওয়া হবে না। সেই সময় তো স্বপন দাশগুপ্ত বিধানসভাতেই উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি কেন আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ বা বিরোধিতা করলেন না?
শারদীয়ার আনন্দ-উৎসাবের মাঝেই রাজনৈতিক স্টল ভাঙচুর ঘিরে এই বাকযুদ্ধ রাজ্যের রাজনৈতিক তাপমাত্রা যে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

