Uttar Dinajpur | অজ্ঞাতবাসে ১০ তৃণমূল কাউন্সিলার 

Uttar Dinajpur | অজ্ঞাতবাসে ১০ তৃণমূল কাউন্সিলার 

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


বরুণকুমার মজুমদার, ডালখোলা: উত্তর দিনাজপুরের (Uttar Dinajpur) ডালখোলা পুরসভার (Dalkhola Municipality) নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে অজ্ঞাতবাসে চলে গেলেন তৃণমূলের ১০ জন বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলার। রাজ্য নেতৃত্ব মনোনীত সুজনা দাসকে চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই বিরোধিতায় সরব হন এই কাউন্সিলাররা। সূত্রের খবর, আগামীকাল, মঙ্গলবার দলের হুইপ অমান্য করে নিজেদের পছন্দের কোনও কাউন্সিলারের নাম চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। ফলে ভোটাভুটির মাধ্যমে নতুন পুরপ্রধান নির্বাচনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহের শেষে চেয়ারম্যান স্বদেশচন্দ্র সরকারকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দেওয়ার পরই সুজনা দাসের নাম নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করে রাজ্য নেতৃত্ব। সেই ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল কাউন্সিলারদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়। মোট ১৬ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ১০ জন সুজনার পরিবর্তে অভিজ্ঞ অন্য কাউকে চেয়ারম্যান করার দাবিতে রাজ্য নেতৃত্বকে চিঠি দেন। বিক্ষুব্ধদের মত পরিবর্তন করানোর চেষ্টায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল ও করণদিঘির বিধায়ক গৌতম পাল কয়েক দফা বৈঠক করলেও কোনও ফল হয়নি। সুজনার বিরোধিতায় অনড়ই থাকেন বিক্ষুব্ধরা।

সোমবার দুপুরে হঠাৎই ওই ১০ জন কাউন্সিলার অজ্ঞাতবাসে চলে যান। সেখানেই তাঁরা নিজেদের রণকৌশল ঠিক করছেন বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিক্ষুব্ধদের বিপরীত শিবিরের ৫ জন কাউন্সিলার চেয়ারম্যান নির্বাচন স্থগিত রাখার আবেদন করায় রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। ওই পাঁচজন বিদায়ি ভাইস চেয়ারম্যান হাজি ফিরোজ আহমেদের কার্যালয়ে গিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিতের লিখিত আবেদন জানান। সেই আর্জি মেনে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ কাউন্সিলারদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বোর্ড অফ কাউন্সিলার্সের মিটিং স্থগিতের নোটিশ জারি করেন ভাইস চেয়ারম্যান।

কিন্তু ওই নোটিশ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, সেখানে ‘১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে নির্ধারিত বোর্ড অফ কাউন্সিলার্স মিটিং স্থগিত করা হল’ – এমন ভুল তারিখ উল্লেখ রয়েছে। কেন এই বিভ্রান্তিকর নোটিশ দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দলের অন্দরেই। বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তারিখ দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা হয়েছে।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার কৈলাস সাহা জানান, ‘আমাদের ধারণা অফিসেরই এক কর্মী ভুল তারিখ লিখে ভাইস চেয়ারম্যানকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছেন।’ অজ্ঞাতবাসে থাকা আরেক বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলার তনয় দে বলেন, ‘আমরা জানি ১৮ নভেম্বরই চেয়ারম্যান নির্বাচন। তাই আমরা আগামীকাল ১০ জন সময়মতো উপস্থিত থাকব। আমরা দলের সঙ্গেই আছি, ভবিষ্যতেও থাকব।’ অন্যদিকে, নোটিশে ভুল তারিখ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ভাইস চেয়ারম্যান হাজি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘জেলা সভাপতি ও বিধায়কের নির্দেশ মেনে নির্বাচন বাতিলের চিঠি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছি। অফিসের কর্মী ভুল করে নভেম্বরের বদলে ডিসেম্বর লিখে আমাকে দিয়ে সই করিয়ে নিয়েছে।’ কাউন্সিলারদের দলের নির্দেশ মানার আর্জি জানান বিধায়ক গৌতম পাল ও জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *