Suvendu Delhi Go to | ‘শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, যা বলেছি করবও’, দিল্লি সফরে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

Suvendu Delhi Go to | ‘শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, যা বলেছি করবও’, দিল্লি সফরে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


নয়াদিল্লি: বাংলায় পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা আর কবে? মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণের পর দু’সপ্তাহ কেটে গেল যে। মাত্র ৫ মন্ত্রীর সরকার এখন বাংলায়। এই অবস্থা আর কতদিন- কৌতূহল সাধারণ মানুষের। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Delhi Go to) নয়াদিল্লি সফরেও প্রশ্নটা উঠল। কিন্তু তিনি নির্দিষ্ট সময় বা দিন স্পষ্ট করলেন না। সাংবাদিকদের প্রশ্নে সংক্ষিপ্ত জবাব দিলেন, ‘খুব শীঘ্র পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠন হবে। প্রথা মেনে রাজ্যপালের মাধ্যমে তার ঘোষণা হবে।’

কিন্তু সেই ঘোষণা কবে? কোনও আভাস নেই আপাতত। বিজেপি সূত্রে খবর, সময় লাগবে আরও। মে মাসে সম্ভাবনা ক্ষীণ। জুনের প্রথমার্ধের পর পুরো মন্ত্রীসভা শপথ নিতে পারে। যদিও শুক্রবারই বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হয়েছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুনীল বনসলের মধ্যে।

চলতি সপ্তাহে শিলিগুড়িতে (Siliguri) প্রশাসনিক বৈঠক করে গিয়েেছন বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী। যেখানে উন্নয়নের নির্দিষ্ট কোনও প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ঘোষণা হয়নি। বা কোনও প্রকল্প শুরুর সময়সূচির সিদ্ধান্ত হয়নি।

অথচ নির্বাচনি প্রচারে উত্তরবঙ্গ নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি ছিল বিজেপির। নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেন্দুর আলাপচারিতার সময় শুক্রবার প্রসঙ্গটি তুলেছিল উত্তরবঙ্গ সংবাদ। জবাবে তিনি শুধু বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এখনও কুড়ি দিনও হয়নি। আগের সরকারের মতো আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি দেব না, যা বলব তা করবও।’ নির্দিষ্ট প্রকল্প বা নির্দিষ্ট সময় নিয়ে কিন্তু ধোঁয়াশা থাকলই।

তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) সঙ্গে বৈঠকের পর শুভেন্দু দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী ফের স্পষ্ট করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন কেন্দ্রীয় সরকারের এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর নীতিকে সামনে রেখে রাজ্যকে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা থেকে বের করে শিল্পোন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং যুবসমাজের ক্ষমতায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এক্স হ্যান্ডেলে শুভেন্দু পরে লেখেন, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে কেন্দ্রের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে মুখ্যমন্ত্রীর দু’দিনের সফরে উত্তরবঙ্গের ‘চিকেন নেক’ নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে শুক্রবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পায়। উত্তরবঙ্গের নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

পরে বঙ্গ ভবনে শুভেন্দু বলেন, ‘চিকেন নেক দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা। কেন্দ্র বহুবার চিঠি দিলেও আগের রাজ্য সরকার কোনও কাজ করেনি। এবার ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটির মাধ্যমে সেই কাজ এগোবে।’ তিনি জানান, পিডব্লিউডি এবং ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটির মধ্যে আলোচনা চলছে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সীমান্তবর্তী এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে।

এই সফরে বাংলায় বন্ধ হয়ে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বরাদ্দ চালু করা ছিল শুভেন্দুর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। এই প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা দেন, ‘কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম বদলে দেওয়ার কারণে এতদিন বরাদ্দ আটকে ছিল। আমরা সেই সমস্যার সমাধান করে দিলে দ্রুত কেন্দ্রীয় বরাদ্দের রাস্তা খুলবে। নিয়ম মেনে সব হবে। প্রকল্পের নাম বদলে টাকা চাইলে তো পাওয়া যায় না।’

মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে দ্রুত আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করতে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সঙ্গে রাজ্য সরকারের এ বিষয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় তৈরি হয়েছে। ফলে আটকে থাকা বকেয়া দ্রুত মিটবে। দিল্লির আপ সরকারের আমলে তৈরি মহল্লা ক্লিনিকের আদলে বাংলায় ‘আয়ুষ্মান মন্দির’ নামে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার রাজনৈতিক কারণে এই নাম ব্যবহার করেনি।

অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে নিজের কড়া অবস্থান ফের সামনে এনে তাঁর বক্তব্য, ‘অনুপ্রবেশকারীদের জেলে রেখে ভারতীয় করদাতাদের টাকা নষ্ট করবে না সরকার। চিহ্নিত করার পর তাঁদের ফেরত পাঠানো হবে।’ বৃহস্পতিবার রাতে তিনি রাজধানীতে পৌঁছান। রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা’র বাসভবনে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন তিনি। রাত কাটান দিল্লির সিন্ধু অ্যাপার্টমেন্টের সাংসদ কোয়ার্টারে।

শুক্রবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণনের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। বিজেপির সদর দপ্তর দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে গিয়ে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের সঙ্গে বৈঠক করেন। দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অবশ্যই মোদির বাসভবনে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে তাঁকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি উপহার দেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *