উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : জাতীয় সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিজেপি সরকার। রাজ্যে অনুপ্রবেশের সমস্যা পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে আজ, বুধবার থেকেই কার্যকর করা হলো কড়া ‘পুশব্যাক’ (Pushback Legislation West Bengal) আইন। নবান্নে আয়োজিত একটি হাইপ্রোফাইল সাংবাদিক বৈঠকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই বড় ঘোষণা করেছেন। এর ফলে সীমান্ত পার করে অবৈধভাবে বঙ্গে প্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ এবং দ্রুত প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া এক ধাক্কায় অনেকটাই গতি পাবে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন পূর্বতন তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনেন। তিনি জানান, অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য থেকে তাড়ানোর জন্য বিগত ২০২৫ সালেই কেন্দ্রের তরফে রাজ্যকে স্পষ্ট নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন শাসকদল ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে সেই নির্দেশিকাকে ঠান্ডা ঘরে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আজ থেকেই সেই কেন্দ্রীয় গাইডলাইন মেনে আইন বলবৎ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন এই নিয়মের ফলে পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) মধ্যে সমন্বয় আরও সুদৃঢ় হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পুলিশ প্রথমে স্থানীয় স্তরে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের (Infiltrators) চিহ্নিত করে আটক করবে। এরপর তাদের সরাসরি বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। বিএসএফ দ্বিপাক্ষিক প্রটোকল মেনে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (BGB) সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত তাদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাবে। এই সুসংহত প্রক্রিয়ার ফলে আইনি জটিলতা এড়িয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ‘ঘুসপেটিয়া’দের বাংলা থেকে বিতাড়ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এই পুশব্যাক আইন কার্যকরের ঘোষণার পর থেকেই ওপার বাংলা থেকে আসা বিশেষত মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের মনে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন, তাঁদেরও কি এবার রাজ্য ছাড়তে হবে? এই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে সামাল দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই আইন কোনো বৈধ শরণার্থী বা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য নয়। বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে যে সমস্ত হিন্দু বা অন্য ৫ টি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁরা সিএএ (CAA) অনুযায়ী ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একদিকে যেমন সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর বার্তা দিল বর্তমান সরকার, তেমনই সিএএ নিয়ে বিরোধী শিবিরের তৈরি করা বিভ্রান্তি দূর করে মতুয়া ও অন্যান্য উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টাও করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
