সানি সরকার, শিলিগুড়ি: ফের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari Uttarkanya Assembly)। দু’মাসের মধ্যে তৃতীয়বার। ঝটিকা সফরে শুক্রবার শিলিগুড়ি আসছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। দুর্যোগ মোকাবিলায় উত্তরবঙ্গের আট জেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে উত্তরকন্যায় তিনি প্রশাসনিক বৈঠক করবেন। বৈঠক শুরু হওয়ার কথা দুপুর ২টায়। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী ফিরে যাবেন কলকাতায়।
দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়ির প্রশাসনিক কর্তারা সশরীরে উপস্থিত থাকবেন উত্তরকন্যার বৈঠকে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলির প্রশাসনিক কর্তারা বৈঠকে যোগ দেবেন ভার্চুয়ালি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল ছাড়াও কয়েকজন মন্ত্রীর আসার কথা। রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন বলেন, ‘আমাদের সরকার উত্তরবঙ্গকে কতটা গুরুত্ব দেয়, মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক উদ্যোগেই তা স্পষ্ট। উত্তরবঙ্গ আর বঞ্চিত থাকবে না।’
লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার উপস্থিতিতে শুক্র ও শনিবার কলকাতায় রাজ্য বিধানসভার সদস্যদের ‘ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম’ থাকায় উত্তরকন্যার বৈঠকে উত্তরের বিধায়কদের উপস্থিতির সম্ভাবনা কম। মুখ্যমন্ত্রীর সফর সম্পর্কে বৃহস্পতিবারই জানতে পারে উত্তরবঙ্গের সব জেলার প্রশাসন। তড়িঘড়ি উত্তরকন্যায় পৌঁছে দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির প্রশাসনিক কর্তারা বৈঠকের প্রস্তুতি শুরু করেন।
বিপর্যয় মোকাবিলায় হঠাৎ মুখ্যমন্ত্রীর এই গুরুত্ব দিয়ে বৈঠক করার কারণ গত কয়েকদিনে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি। ইতিমধ্যে বালাসন নদীর স্রোতে দুধিয়ায় উড়ে গিয়েছে হিউমপাইপের অস্থায়ী সেতু। শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। পাহাড় পথের একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে। ধসের জেরে প্রায়দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ থাকছে কালিম্পং ও সিকিমের সঙ্গে শিলিগুড়ির সংযোগকারী ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক।
এছাড়া বারবার জলমগ্ন হয়েছে সমতলের একাধিক জেলা। তিস্তা, তোর্ষা, জলঢাকা সহ একাধিক নদীতে জলস্ফীতি ঘটায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন বাঁধ। কয়েকটি বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। বলতে গেলে বর্ষা নামতেই উত্তরবঙ্গে উদ্বেগের পরিবেশ। গত দু’দিন ধরে ভারী বৃষ্টি হয়নি বটে। আগামী কয়েকদিন লাল বা কমলা সতর্কতাও নেই। কিন্তু আগামী সপ্তাহের শেষের দিকে ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ অক্ষরেখার প্রভাবে ফের সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। ফলে ফের দুর্যোগের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা আছে উত্তরবঙ্গের।
চলতি মরশুমের প্রথম দফার দুর্যোগের সময় থেকে সব জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখেছিলেন শুভেন্দু। তাঁর নির্দেশে জেলাওয়াড়ি কন্ট্রোলরুম এবং হেল্পলাইন নম্বর চালু হয়েছিল। সেসময় তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় বেশ কিছু নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসনকে। সেই নির্দেশ কতটা কার্যকরী হয়েছে, সেসম্পর্কে শুক্রবারের বৈঠকে রিপোর্ট চাইবেন তিনি। জেলা ধরে ধরে জানতে চাইবেন বর্তমান পরিস্থিতি, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলাগুলির প্রস্তুতি, এবং রাজ্য প্রশাসন কী ধরনের সহযোগিতা করতে পারে ইত্যাদি।
রাজ্য স্তরের এক প্রশাসনিক কর্তার বক্তব্য, ‘উত্তরবঙ্গে এখন ভারী বৃষ্টি না থাকায় এই সময় আগামীর প্রস্তুতির জন্য যথোপযুক্ত। সেকারণে মুখ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসনগুলির সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে চাইছেন।’ ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু প্রথম উত্তরবঙ্গে আসেন ২০ মে। ওইদিন উত্তরের জেলা প্রশাসনগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন উত্তরকন্যায়। ওই বৈঠকেও গুরুত্ব পেয়েছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এরপর তিনি আসেন ১৬ জুন কার্সিয়াংয়ে জনকল্যাণ শিবিরে যোগ দিতে। শুক্রবার তিনি এলে দু’মাসের মধ্যে তিনবার উত্তরবঙ্গ সফর হবে শুভেন্দুর।

