উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ গত চার বছর ধরে চলা ইউরেশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ফের ভয়াবহ রূপ নিল (Russia Ukraine Conflict Replace)। বৃহস্পতিবার রাতভর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়া যে বিশাল আকারের হামলা চালিয়েছে, তাকে চলতি বছরের সবচেয়ে বড় আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই অতর্কিত হামলায় অন্তত ২৭ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে ইউক্রেন প্রশাসন। ধ্বংস হয়েছে শহরের প্রায় ১৩০টি ভবন।
বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কিয়েভ জুড়ে শুরু হয় রাশিয়ার ধ্বংসলীলা। ইউক্রেন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া অন্তত ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি ড্রোন ব্যবহার করে রাজধানী শহরটিকে নিশানা করেছে। সারারাত ধরে চলা বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো শহর। জীবন বাঁচাতে হাজার হাজার আতঙ্কিত মানুষ বাঙ্কার এবং ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনগুলিতে আশ্রয় নেন। বর্তমানে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ এখনো অব্যাহত।
হামলার সময় বিদেশ সফরে ছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। খবর পাওয়া মাত্রই তিনি আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরেন। এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতির জন্য তিনি সরাসরি পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের বন্ধুরা যদি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সঠিক সময়ে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করত, তবে আমরা অনেক প্রাণ বাঁচাতে পারতাম। আমরা বাড়তি কিছু চাইনি, শুধু যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা-ই চেয়েছিলাম।”
অন্যদিকে, রাশিয়া এই হামলাকে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার যোগ্য জবাব হিসেবে অভিহিত করেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী আকাশ, সমুদ্র ও স্থলপথ ব্যবহার করে ইউক্রেনের সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি কেন্দ্র এবং বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর ধ্বংস করেছে। রাশিয়ার দাবি, তাদের তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের অব্যাহত ড্রোন হামলার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

