উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : ভারতীয় রাজনীতির অলিন্দে বরাবরই ‘খাদ্য রাজনীতি’ এক বড় ভূমিকা পালন করে এসেছে। কিন্তু দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড ভেঙে নরেন্দ্র মোদীর সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি ‘নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী’ হওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্তে সেই কূটনীতিতে যে বাংলার ‘ঝালমুড়ি’ এতটা জায়গা করে নেবে, তা হয়তো অনেকেই ভাবেননি। বুধবার দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র (NDA) বিশেষ বৈঠকে ঠিক সেই রসালো ঘটনাই ঘটল। দেশের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে নিজের হাতে মাখা ঝালমুড়ি তুলে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে পদ্ম শিবিরের ঐতিহাসিক জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মোদির দরবারে শুভেন্দুর এই ঝালমুড়ি উপহার রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য এ বছরের লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের আবহে। গত ১৯ এপ্রিল ঝাড়গ্রামে নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে চেনা ছক ভেঙেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সড়কপথে ফেরার সময় ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজ মোড়ে তাঁর কনভয় থামিয়ে ‘চবনলাল স্পেশ্যাল ঝালমুড়ি’ দোকান থেকে মাত্র ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন তিনি। রাতারাতি ভাগ্যের চাকা ঘুরে গিয়েছিল দোকানদার বিক্রমকুমার সাউয়ের।
তবে সেই খ্যাতির মুদ্রার ওপিঠও যে এতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা বিক্রম ভাবেননি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর তাঁর হাতের খাবার খাওয়ার পর থেকেই ওপার বাংলা (বাংলাদেশ) এবং পাকিস্তান থেকে অনবরত হুমকি মেসেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ আসতে শুরু করে তাঁর ফোনে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ঝাড়গ্রাম থানার দ্বারস্থ হতে হয় তাঁকে। আপাতত প্রশাসনের তরফে বিক্রমকে কড়া নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। আর সেই ঝাড়গ্রামের ‘হুমকি-বিধ্বস্ত’ ঝালমুড়ির স্মৃতিকেই বুধবার দিল্লির মঞ্চে পুনরুজ্জীবিত করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, যা অত্যন্ত ইঙ্গিতবাহী।
বিজেপির দাবি অনুযায়ী, টানা প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদে জওহরলাল নেহরু ১৬ বছর থাকলেও, ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে পর্যন্ত তিনি ‘নির্বাচিত’ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। সেই পাঁচ বছর বাদ দিলে টানা ৪,৩৯৯ দিন পূর্ণ করে নেহরুর রেকর্ড টপকে গিয়েছেন মোদী। এই ১২ বছরের সাফল্যকে তুলে ধরতে দেশজুড়ে এক মাসের বিশেষ প্রচার শুরু করেছে এনডিএ। নিজের এই দীর্ঘ সফরকে এক্স (টুইটার) হ্যান্ডলে ‘বিশ্বাস, বিকাশ ও জনকল্যাণের ১২ বছর’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লেখেন, “আমাদের সরকার বিগত ১২ বছর ধরে দেশের ১৪০ কোটি মানুষের আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে ‘রাষ্ট্রই প্রথম’ মন্ত্রে কাজ করেছে। যুবসমাজ, মহিলা ও কৃষকদের ক্ষমতায়নে আমরা বদ্ধপরিকর। ডিজিটাল বিপ্লব থেকে পরিকাঠামো—আজ বিশ্বে ভারতের নতুন পরিচিতি তৈরি হয়েছে।”
সব মিলিয়ে, একদিকে যখন নেহরুর রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী, ঠিক তখনই দিল্লির হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর হাতের ঝালমুড়ি খাওয়া কেবলই স্বাদের মেলবন্ধন নয়, বরং রাজনৈতিক স্তরেও কেন্দ্রের সঙ্গে নতুন সরকারের মধুর সমীকরণেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
