উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ ক্রমশ বাড়ছে। মাত্র একজন বা দুজন নয়, দলের অন্দরে ৫০ জন বিধায়কের বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। সূত্রের খবর, এই বিক্ষুব্ধ বিধায়করা ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে বিধানসভায় বিরোধী দলের স্বীকৃতির দাবি জানাতে চলেছেন। ইতিমধ্যেই এই আবেদনের দাবিতে ৫০ জন বিধায়ক স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। এই ৫০ জনের দলনেতা হতে পারেন সদ্য তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়।
প্রাথমিকভাবে আজ বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর (Rathindranath Basu) কাছে এই চিঠি জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির কারণে তা পিছিয়ে যেতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। বুধবার এই চিঠি জমা দেওয়া হতে পারে বিধানসভায়। এই বিধায়কদের দলনেতা হিসেবে সদ্য তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নাম উঠে এলেও, তিনি এই খবর অস্বীকার করেছেন। তবে এই জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূল যেভাবে চলছিল, তাতে এটা প্রত্যাশিত ছিল। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে এই দল।” তাঁর মতে, দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫০ জন যদি এমন দাবি জানান, তবে সেই দাবির সাংবিধানিক মান্যতা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা দিলীপ ঘোষ এই পরিস্থিতিকে শাসকদলের ‘পাপের ফল’ বলে অভিহিত করেছেন।
পাল্টা তোপ দেগে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বিক্ষুব্ধদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা কেউ নির্দল হয়ে জিতিনি। দলের নেত্রীর ছবি ও পোস্টার ব্যবহার করে বিধায়ক হয়েছি। এখন এমন বিদ্রোহ করাটা চরম অকৃতজ্ঞতা ও বিবেকের অভাব।”
এই বিদ্রোহের জল কতদূর গড়ায়, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সরকার কি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে, নাকি এই সংকট সামাল দেবে তৃণমূল নেতৃত্ব—সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।
