উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের দুই বিরোধী শিবিরের সংঘাত যেন আরও তীব্রতর হচ্ছে। একদিকে কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চ ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হওয়া, অন্যদিকে তারকেশ্বর সফরে গিয়ে সেই কর্মসূচিকে চরম কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এদিন তারকেশ্বর থেকে তিনি তৃণমূলের সাংগঠনিক দৈন্যদশা নিয়ে বিঁধলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে।
ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “জিয়েঙ্গে তো বিজেপি কো হাটায়েঙ্গে” স্লোগানকে গুরুত্ব দিতে নারাজ শুভেন্দু। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “এত দুরবস্থা আমি জানতাম না! একঝুড়ি লোক নিয়ে কর্মসূচি, দেড়শো জনও উপস্থিত ছিল না। সাংবাদিকরা না থাকলে তো আরও করুণ অবস্থা হত।” তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূলের অধিকাংশ সাংসদ ও বিধায়কই এই কর্মসূচিতে অনুপস্থিত ছিলেন, যা ইঙ্গিত দেয় দলটির অবস্থা এখন অনেকটা ‘ফলতার নির্বাচনের’ মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারকেশ্বর সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদ (TDA) ভেঙে দেওয়া হচ্ছে এবং সেখানে এডিএম অনুজ প্রতাপ সিংহকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে। এছাড়া তারকেশ্বর ট্রাস্টি বোর্ডের আর্থিক সহায়তা বন্ধের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “সামনে শ্রাবণী মেলা। পুণ্যার্থীদের জন্য এবার বড় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” পাশাপাশি, মন্দিরের আধ্যাত্মিকতা ও সংস্কৃতির কথা মাথায় রেখে দুধপুকুর পাড়ের বর্তমান নীল-সাদা রঙের পরিবর্তে মানানসই নতুন রঙ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
২০১৭ সালে তৎকালীন সরকার গঠিত টিডিএ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে শুভেন্দু জানান, গত দশ বছরে এই পরিষদ পরিকল্পনা অনুযায়ী কোনো কাজই শেষ করতে পারেনি। তারকেশ্বরকে ঘিরে তাঁর নিজস্ব বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খুব শীঘ্রই এই সমস্ত কাজ শুরু হবে। একদিকে রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ, অন্যদিকে উন্নয়নমূলক প্রশাসনিক তৎপরতা— তারকেশ্বর সফর থেকে শুভেন্দু অধিকারী কার্যত বার্তা দিলেন যে, সরকার বদলের পর কাজের ধরনও দ্রুত বদলাচ্ছে।
