উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিক্ষোভে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। তার ওপর রবিবার শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে চলছে জোর তরজা। এই ডামাডোলের মাঝেই সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে এক হাত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম না নিলেও, তাঁর নিশানায় ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক ‘জনরোষ’ ও বিক্ষোভের ঘটনাগুলি। মুখ্যমন্ত্রীর সাফ বার্তা, “একটা উঠে যাওয়া পার্টি, ফলতায় চতুর্থ হওয়া দলের কাউকে এত গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পার্টি অফিস থেকে সরকারি ত্রাণ উদ্ধার ও তৃণমূল নেতাদের ঘিরে বিক্ষোভের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি অনেক জায়গায় দেখছি, পার্টি অফিস থেকে সরকারি ত্রাণ উদ্ধার হচ্ছে। তা নিয়ে অনেকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। আপনাদের এই সব করার দরকার নেই। পুলিশ, বিডিও এঁদের ডাকুন। প্রশাসন যা করার করবে। আপনাদের আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সোনারপুর থেকে চণ্ডীতলা— যেভাবেই তৃণমূল সাংসদরা বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন এবং বিজেপিকে দায়ী করছেন, তার প্রেক্ষিতেই এই মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রী পরোক্ষে নিজের কর্মীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিলেন। তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন, বিক্ষোভ বা জনরোষ দেখিয়ে ওই দলটিকে প্রচারের আলোয় আসার সুযোগ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
সোনারপুরের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছিলেন। পাল্টা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, এটি তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল বা ‘ভাগ বাঁটোয়ারার’ লড়াই। এদিকে, চণ্ডীতলা থানায় বিক্ষোভের সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাতেও বিজেপি জড়িত নয় বলে দাবি করেছে গেরুয়া শিবির।
তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের অনুগামীদের গ্রেপ্তারির ঘটনা এবং বিজেপি ও তৃণমূলের পাল্টাপাল্টি ছবি প্রকাশের ঘটনায় জল বেশ দূর গড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আজকের নবান্নের বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য সরকার যে আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করবে না এবং প্রশাসনিক স্তরেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা আজ আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, তবে কি তৃণমূলের এই জনরোষের নাটককে খুব একটা আমল দিতে চাইছে না সরকার? তা আগামী দিনেই পরিষ্কার হবে।
