North Bengal Foyer Probe | বেতন ছাড়াও স্টাইপেন্ড! শাস্তি হয়নি অভিযুক্ত চিকিৎসকের

North Bengal Foyer Probe | বেতন ছাড়াও স্টাইপেন্ড! শাস্তি হয়নি অভিযুক্ত চিকিৎসকের

শিক্ষা
Spread the love


রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: অভিযোগ শেষে তদন্তের পর শোকজ করা হলেও এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উত্তরবঙ্গ লবির (North Bengal Foyer Probe) অন্যতম প্রধান নেতা ডাঃ সুশান্ত রায়ের ছেলে ডাঃ সৌত্রিক রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে থ্যালাসিমিয়া কন্ট্রোল প্রোগ্রামে মেডিকেল অফিসার হিসেবে বেতনের পাশাপাশি তিনি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এমডি করার জন্য স্টাইপেন্ড নেন। অভিযোগ, দুটি ক্ষেত্রেই অন্য জায়গায় কাজের বিষয়টি তিনি গোপন করেছিলেন। এই ঘটনা নিয়ে স্বাস্থ্য ভবন থেকে ২০১৯ সালে তদন্ত করানো হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্বাস্থ্য দপ্তর সৌত্রিককে শোকজও করে। কিন্তু উত্তরবঙ্গ লবির অন্যতম প্রধানের ছেলে হওয়ায় বাস্তবে সেভাবে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।

এবার রাজ্যে পালাবদলের পরে উত্তরবঙ্গ লবির কর্মকাণ্ড নিয়ে হইচইয়ের মাঝেই সৌত্রিকের চাকরি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সমস্ত ঘটনাই তদন্তে আসবে বলে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্য বিধায়ক আনন্দময় বর্মন জানিয়েছেন। সৌত্রিকের অবশ্য দাবি, তিনি শোকজের কোনও চিঠি পাননি। তঁার কথায়, ‘অভিযোগ উঠলেই সেটা সত্যি এমনটা নয়।’ তাঁর পালটা প্রশ্ন, ‘অনেকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগই ওঠে, সবকিছু কি আর সত্যি হয়?’

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাশ করার পরে ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর সৌত্রিক জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে থ্যালাসিমিয়া কন্ট্রোল ইউনিটে মেডিকেল অফিসার হিসাবে কাজে যোগ দেন। অভিযোগ, ছক কষেই সেই সময় উত্তরবঙ্গের থ্যালাসিমিয়া প্রোজেক্টের সমস্ত কাজকে জলপাইগুড়িকেন্দ্রিক করা হয়েছিল। কালিম্পং হোক বা দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার যে কোনও জায়গায় শনাক্তকরণ শিবিরে যাওয়া থেকে অন্যান্য কাজের সবই জলপাইগুড়ি থেকে করা হয়েছে। অথচ এই শিবিরগুলি সংশ্লিষ্ট জেলা থেকেই হওয়ার কথা বলে স্বাস্থ্যকর্তারা জানাচ্ছেন। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, সৌত্রিক ২০১৮ সালের ২৫ মে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে এমডি করার জন্য যোগ দেন। সরকারি নিয়মে এমডি করার সময় কোনও চিক‌ি‌ৎসক অন্য কোনও সরকারি চাকরিতে যুক্ত থাকতে পারেন না। কিন্তু তিনি থ্যালাসিমিয়া কন্ট্রোল ইউনিটের চাকরি না ছেড়েই এমডি করার জন্য মেডিকেলে যোগ দেন। এমনকি তিনি বিষয়টি পুরোপুরি গোপন করে যান।

এই ঘটনা নিয়ে অভিযোগ উঠতেই স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত হয়। সেই তদন্তের রিপোর্টে বলা হয়, সৌত্রিক জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে থ্যালাসিমিয়া কন্ট্রোল ইউনিটে মেডিকেল অফিসার হিসাবে কর্মরত থেকেই উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে এমডি করা শুরু করেছিলেন। অর্থাৎ জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে মেডিকেল অফিসার এবং উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে এমডি কোর্স করার জন্য স্টাইপেন্ডও নেন। তদন্ত হওয়ার পরেই সৌত্রিককে শোকজ করা হয়েছিল। কিন্তু সৌত্রিক এদিন দাবি করেছেন যে, তিনি শোকজের কোনও চিঠি পাননি।

অভিযোগ, সেই সময় স্বাস্থ্য ভবনে উত্তরবঙ্গ লবি বেশ ভালোভাবেই জাঁকিয়ে বসেছে। আর মাথার ওপরে বাবা অর্থাৎ উত্তরবঙ্গ লবির প্রধান ডাঃ সুশান্ত রায় বসে থাকায় স্বাস্থ্য ভবন সৌত্রিকের বিরুদ্ধে সেই সময় কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের চিন্তাভাবনা করেনি। তবে, রাজ্যে পালাবদলের পরে সৌত্রিকের বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য ভবন নাড়াঘঁাটা শুরু করেছে। উত্তরবঙ্গ লবির অন্যতম অভীক দে এবং বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবার বাকিদের পালা, এক চিকিৎসক বিধায়কের এমনটাই দাবি।

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *