Suvendu Adhikari | নবান্নে রহস্যময় বৈঠক! জিটিএ চিফকে এড়িয়ে বিমল গুরুংকে প্রাধান্য, অস্বস্তিতে পাহাড়ের রাজনীতি

Suvendu Adhikari | নবান্নে রহস্যময় বৈঠক! জিটিএ চিফকে এড়িয়ে বিমল গুরুংকে প্রাধান্য, অস্বস্তিতে পাহাড়ের রাজনীতি

শিক্ষা
Spread the love


শিলিগুড়ি: পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক, অথচ সেখানে ডাকই পেলেন না গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এর চিফ এগজিকিউটিভ অনীত থাপা।

দার্জিলিংয়ের সাংসদ, পাহাড়ের নবনির্বাচিত তিন বিধায়ক, জিটিএ’র প্রধান সচিব, দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ের জেলা শাসকের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং, সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি। নবান্নে রাজ্য সরকারের একেবারে শীর্ষস্তরে মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিবের উপস্থিতিতে বৈঠকটি হয়। সেখানে একমাত্র রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে কেন বিমলরা ডাক পেলেন, সেই নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে পাহাড়জুড়ে। প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি যখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), তখন তাঁর একপাশে রাজু বিস্ট, অন্যপাশে মুখ্যসচিবের ঠিক পাশেই জায়গা পেলেন বিমল ও রোশন। বিমলকে বেশ কয়েকবার মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে শলাপরামর্শও করতে দেখা গেল সাংবাদিক সম্মেলন চলাকালীন।

মোর্চার পাশাপাশি পাহাড়ে বিজেপির সঙ্গে জোটে জিএনএলএফ, সিপিআরএমের মতো আঞ্চলিক দলও রয়েছে। তাদের কেন বৈঠকে ডাকা হল না, সেই বিতর্ক চলছে। জিএনএলএফের সাধারণ সম্পাদক নীরজ জিম্বার কথায়, ‘আমরাও তো বিজেপির সঙ্গী। আজকের বৈঠক নিয়ে কিছু জানা ছিল না।’ অনীতের দল অর্থাৎ ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার নেতা শক্তিপ্রসাদ শর্মা বিতর্ক এড়িয়ে বললেন, ‘নবান্নে বৈঠক হয়েছে। সেখানে কে থাকবে, কে থাকবে না- সেটা রাজ্য সরকারই ঠিক করেছে। তারা এ বিষয়ে বলতে পারবে।’ বিজেপির পার্বত্য শাখার সভাপতি সঞ্জীব লামা মন্তব্য করতে চাইলেন না।

২০১৭ সালে হিংসাত্মক আন্দোলন করতে গিয়ে দেশদ্রোহিতা সহ একাধিক মামলায় জড়িয়ে বিমল গুরুংরা প্রায় তিন বছর আত্মগোপন করেছিলেন। রাজ্যের তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে রাজনীতির ময়দানে প্রত্যাবর্তন হয় বিমলদের। পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের পক্ষ নেয় মোর্চা। কিন্তু সেবার পাহাড়, ডুয়ার্সে তৃণমূলের হয়ে একটি আসনও জিতিয়ে দিতে পারেননি বিমলরা।

এবারের বিধানসভা ভোটেও তাঁরা বিজেপিকে সমর্থন করেন। দার্জিলিং আসনে বিমলের দলের যুব সভাপতি নমন রাইকে প্রার্থী করা হয়। পাহাড়ের তিনটি আসনে জয় আসতেই জনমুক্তি মোর্চা পাহাড়ে ছড়ি ঘোরাতে শুরু করে। সেই নিয়ে বিজেপির বাকি শরিক দলগুলির মধ্যে বিস্তর ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু প্রকাশ্যে মুখ খুলে রোষানোলে পড়তে চান না কেউ।

শুভেন্দু শপথ নেওয়ার পরই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছিলেন বিমলরা। ২৫ মে দিনক্ষণ নির্ধারিত হলেও মুখ্যমন্ত্রীর ব্যস্ততার কথা জানিয়ে বৈঠক স্থগিত করে দেওয়া হয়। শুক্রবার ফের বিমলদের বৈঠকে ডাকা হয়। পাহাড়ের তিন বিধায়ক সেখানে জায়গা পেলেও নির্বাচিত জিটিএ বোর্ডের চিফের ঠাঁই হয়নি। উলটে বিতর্ক বাড়াল প্রশাসনিক বৈঠকে বিমলদের উপস্থিতি ও গুরুত্ব পাওয়া।

পাহাড় সমস্যা মেটানোর উদ্দেশ্য কিংবা সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে হলে অন্য রাজনৈতিক দলগুলিকেও ডাকা উচিত ছিল, মনে করেন কালিম্পংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক ডঃ হরকাবাহাদুর ছেত্রী। এপ্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘জিটিএ নিয়ে বৈঠক হলে তো অনীত থাপাকে ডাকতেই হবে। তিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। বিমল গুরুং, রোশন গিরি তো পাহাড়ের সবকিছু নন। বিজেপি জোটে জিএনএলএফ, সিপিআরএম রয়েছে। অজয় এডওয়ার্ডের ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টও (আইজিজেএফ) এখন পাহাড়ে অন্যতম শক্তিশালী দল। সেই জনসমর্থন বিধানসভা ভোটে স্পষ্ট হয়েছে। তাই, এদিনের বৈঠকের উদ্দেশ্য নিয়ে আমিও কিছুটা ধন্দে রয়েছি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *