উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: চিনের উত্তর-পশ্চিমের মরু অঞ্চলে গড়ে তোলা হচ্ছে এক সুবিশাল সামরিক পরিকাঠামো। যা দেখে বিস্মিত প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরাও। স্যাটেলাইট ছবিতে (Satellite tv for pc picture) ধরা পড়েছে সেই দৃশ্য। জিনজিয়াং (Xinjiang) ও গানসু প্রদেশের (Gansu) বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রচুর নতুন লঞ্চ প্যাড, সুরক্ষিত বাঙ্কার এবং অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার নেটওয়ার্ক। এক আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এটি বেজিংয়ের পারমাণবিক সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার এক নজিরবিহীন প্রয়াস (China Nuclear Buildup)।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল চিনের ‘সেকেন্ড-স্ট্রাইক’ বা পালটা আঘাত হানার ক্ষমতা নিশ্চিত করা। অর্থাৎ, শত্রুপক্ষ যদি প্রথম আক্রমণ চালায়, তবে তার পরেও চিনের পারমাণবিক অস্ত্রাগার অক্ষত থাকবে এবং উপযুক্ত জবাব দিতে সক্ষম হবে। আমেরিকার ফেডারেশন অফ আমেরিকান সায়েন্টিস্টস-এর বিশেষজ্ঞ হান্স ক্রিস্টেনসেনের মতে, চিনের এই সামরিক কর্মকাণ্ড সত্যিই অভূতপূর্ব।
এই প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তিনটি রহস্যময় অক্টাগন বা অষ্টভুজাকৃতির সামরিক স্থাপনা। এগুলোর আশেপাশে প্রচুর লঞ্চ প্যাড, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং মিসাইল মোতায়েনের উপযোগী পরিকাঠামো দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও, মরুভূমির মাটির নীচ দিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার লাইনের মতো যোগাযোগের জালের অস্তিত্ব পাওয়ার কথাও জানা গিয়েছে। এর মাধ্যমে চিনা সামরিক কমান্ড কেন্দ্রগুলি যেকোনও পরিস্থিতিতে নিজেদের মিসাইল ফিল্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবে।
পেন্টাগনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চিনের হাতে প্রায় ১,০০০টি পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে। যদিও চিন দীর্ঘকাল ধরে ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা আগে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি মেনে চলার দাবি করে আসছে, কিন্তু তাদের এই নতুন সামরিক তৎপরতা তাইওয়ান ইস্যু এবং মার্কিন-চিন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশাল পরিকাঠামো কেবল আত্মরক্ষার জন্য নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে চিনের কৌশলগত আধিপত্য বিস্তারের একটি বড় পদক্ষেপ।
