Supreme Courtroom on citizenship | ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলেই নাগরিকত্ব শেষ? কী জানাল সুপ্রিম কোর্ট?

Supreme Courtroom on citizenship | ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলেই নাগরিকত্ব শেষ? কী জানাল সুপ্রিম কোর্ট?

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের (ECI) ভোটার তালিকা সংশোধনীর অজুহাতে আমজনতার সাংবিধানিক অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা কেড়ে নেওয়া যাবে না— আজ এক ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণে তা সাফ জানিয়ে দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনে কারও নাম বাদ পড়লে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই ব্যক্তির নাগরিকত্ব হরণের কারণ হতে পারে না (Supreme Courtroom on citizenship)।

প্রখ্যাত সমাজকর্মী প্রসেনজিৎ বোসের দায়ের করা একটি মামলার (West Bengal SIR petition) শুনানিতে বরিষ্ঠ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতে জানান, তৃণমূল জমানার ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তাকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আওতা থেকে ‘অযোগ্য’ বলে ঘোষণা করেছেন। এমনকি মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলও হুঙ্কার দিয়েছিলেন যে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়লে মিলবে না সরকারি আর্থিক সাহায্য। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অজুহাতে রেশন, জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificates), এমনকি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রাক্তন সম্পাদক আর. রাজগোপালের মতো ব্যক্তিত্বের পাসপোর্ট রিনিউয়াল পর্যন্ত আটকে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আইনজীবী শঙ্করনারায়ণন আদালতের সামনে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলার ১৯টি অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে প্রায় ৩৪ লক্ষ আপিল ঝুলে রয়েছে। অথচ যে ৩৮,০০০ মামলার নিষ্পত্তি এযাবৎ হয়েছে, তার মধ্যে ৭০ শতাংশেরই নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নাম বাতিলের সিংহভাগ সিদ্ধান্তই ছিল ত্রুটিপূর্ণ! এই বিপুল কাজের চাপে ইতিমধ্যেই ট্রাইব্যুনালের দুজন বিচারপতি ইস্তফাও দিয়েছেন।

বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ এই প্রসঙ্গে কড়া অবস্থান নেন। বিহারের একটি পুরোনো মামলার রায় মনে করিয়ে দিয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট বলেন, “নির্বাচন কমিশন (ECI) ভারতের নাগরিকত্ব নির্ধারণ করার কোনো সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ নয়। তাদের কাজ শুধু ভোটার তালিকা দেখভাল করা।” আদালত স্পষ্ট করে দেয়, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে ‘সন্দেহ’ থাকলে কমিশন তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠাতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগে পর্যন্ত কোনো নাগরিকের মৌলিক ও সামাজিক অধিকার কেড়ে নেওয়া বেআইনি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *