উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজ্যে কর্মসংস্থানের পরিধি বাড়াতে এবং লগ্নিকারীদের (investor) উৎসাহিত করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল শুভেন্দু সরকার। দীর্ঘদিনের ‘শিল্প খরা’ কাটিয়ে বিনিয়োগ টানতে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করেছে রাজ্য প্রশাসন। এই নীতিতে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের বন্ধ বা রুগ্ন কারখানাগুলিকে নতুন জীবনদান এবং নতুন শিল্পদ্যোগকে স্বাগত জানানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পে (msme) মহিলা এবং রূপান্তরকামী কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফাণ্ড বা ইপিএফ বাবদ নিয়োগকারী যে অর্থ ব্যয় করবেন, তার পুরো অংশটিই টানা ১০ বছর ধরে ফেরত দেবে সরকার। তবে পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে এই ভর্তুকির পরিমাণ ৫০ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে। পাশাপাশি, যে সমস্ত ইউনিটে দুইশোর বেশি কর্মী কর্মরত আছেন, সেখানে নারী কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার অংশের ৭৫ শতাংশ এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে অর্ধেক অর্থ রাজ্য সরকার ফেরত দেবে।
অন্যদিকে, অগ্রাধিকার প্রাপ্ত এলাকায় কমপক্ষে দুইশো এবং অন্যান্য অঞ্চলে অন্তত চারশো কর্মীযুক্ত বৃহৎ শিল্প ও মেগা প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর্যন্ত ৫০ শতাংশ ইপিএফের টাকা নিয়োগকর্তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। পুরনো কারখানাগুলির সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির শর্ত রাখা হয়েছে। প্ল্যান্ট ও যন্ত্রাংশ কেনার ক্ষেত্রে সাধারণ ইউনিট একশো শতাংশ সহায়তা পেলেও থ্রাস্ট সেক্টর বা অগ্রাধিকার প্রাপ্ত এলাকার ইউনিটগুলি যথাক্রমে ১১০ শতাংশ এবং ১২০ শতাংশ পর্যন্ত সুবিধা পাবে। তবে এই সহায়তাগুলি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর ধাপে ধাপে প্রদান করা হবে।
শিল্পে জোয়ার আনতে বিদ্যুতের মাশুল এবং জমির স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ খরচও পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি, ২০৩০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুতের ওপেন অ্যাক্সেসের ক্ষেত্রে সারচার্জ সম্পূর্ণ মকুব করা হয়েছে। তবে জমি নিয়ে দীর্ঘকাল কোনও উৎপাদনমূলক কাজ শুরু না করলে, তিন মাস মেয়াদ পেরোলেই সেই জমি সরকারের পক্ষ থেকে ফেরত নেওয়া হবে বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

