উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের সর্বোচ্চ আদালতে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা। নিজেকে দেশের ‘সার্বভৌম’ (Sovereign) নাগরিক দাবি করে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Courtroom) বিচারপতিদের ‘বিচারবিভাগীয় ভৃত্য’ বা ‘জুডিশিয়াল সার্ভেন্ট’ বলে সম্বোধন করলেন এক মামলাকারী। শুধু তাই নয়, প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে অশ্রাব্য গালিগালাজ করে এজলাসের ভেতরেই ফাইল ও নথিপত্র ছুঁড়ে মারেন তিনি। শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথন এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চে এই চরম নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তারক্ষীরা সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে আদালত কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে যান।
লখনউয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (ASP) বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ এনে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করতে চেয়েছিলেন প্রবাল প্রতাপ নামের ওই মামলাকারী। নিম্ন আদালত ও এলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad Excessive Courtroom) তাঁর আবেদন খারিজ করায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
এদিন শুনানির শুরুতে নিজেই নিজের মামলা লড়তে ওঠেন প্রবাল। বিচারপতিদের দিকে আঙুল উঁচিয়ে তিনি বলেন, “মিস্টার জুডিশিয়াল সার্ভেন্ট, আমি আপনাকে আদেশ দিচ্ছি, লখনউয়ের এএসপির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিন।” এই কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আপনি আমাদের আদেশ দিচ্ছেন?” এরপরই মেজাজ হারিয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের উদ্দেশ্যে কুরুচিকর শব্দ প্রয়োগ করতে শুরু করেন প্রবাল এবং হাতের ফাইলগুলো বাতাসে ছুঁড়ে মারেন।
আদালত অবমাননা বা এজলাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য কঠোর শাস্তির আইনি বিধান থাকলেও, এই ঘটনায় এক অনন্য মানবিক নজির গড়ল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। প্রবাল প্রতাপকে নিরাপত্তারক্ষীরা আটকে রাখলেও, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো রকম শাস্তিমূলক বা আদালত অবমাননার (Contempt of Courtroom) পদক্ষেপ করতে অস্বীকার করে বিচারপতি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ।
মামলাটি খারিজ করে দেওয়ার পাশাপাশি বিচারপতি বিশ্বনাথন অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে মন্তব্য করেন, “আমরা ওনার বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে চাই না। উনি অত্যন্ত মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছেন… এই আচরণ আসলে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ। ওনার প্রতি আমাদের কেবল সহানুভূতিই রয়েছে।” আদালত সূত্রে জানা গেছে, লখনউয়ের বিশেষ সিজেএম আদালত প্রবালের আবেদনটিকে এফআইআর হিসেবে না দেখে ব্যক্তিগত অভিযোগ হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দিয়েছিল। এলাহাবাদ হাইকোর্টও সেই রায় বহাল রাখে। সুপ্রিম কোর্টও হাইকোর্টের রায়ে কোনো ভুল খুঁজে পায়নি, ফলে বিশেষ অনুমতি পিটিশনটি (SLP) খারিজ হয়ে যায়। তবে আইনি লড়াইয়ে হেরে গেলেও, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আইনি মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।

