কুমারগঞ্জঃ কৃষিনির্ভর কুমারগঞ্জ ব্লকে দ্রুত কমছে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ (Agricultural Land Loss)। ধান বা রবি শস্যের বদলে মাঠজুড়ে এখন কেবলই পুকুর খননের হিড়িক (Unlawful Pond Digging)। গত কয়েক বছরে ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় হাজারখানেক নতুন পুকুর তৈরি হয়েছে। মুনাফার লোভে কৃষিজমির এই চরিত্র বদল ভবিষ্যতে খাদ্যসংকট ও ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয়দের দাবি, ধান চাষের তুলনায় মাছ চাষে লাভের অঙ্ক বেশি হওয়ায় কৃষকরা কৃষিজমির চরিত্র বদলে ফেলছেন। এছাড়া পুকুর খননের সময় উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ মাটি চড়া দামে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে, যা তাৎক্ষণিক আর্থিক লাভের পথ খুলে দিচ্ছে। সাফানগর, রামকৃষ্ণপুর, সমজিয়া, জাখিরপুর ও দিওর-এর মতো পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে গেলেই যত্রতত্র এই ‘পুকুর বিপ্লব’ চোখে পড়ছে।
পরিবেশপ্রেমীদের মতে, কৃষিজমি কোনো রাবার নয় যে টানলে বাড়বে। পুকুর ভরার জন্য মার্শাল দিয়ে জল তোলায় ভূগর্ভস্থ জলস্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। উঁচু জমিতে পুকুর করায় পাশের নিচু জমিগুলিতে জল চুঁইয়ে ফসল নষ্ট হচ্ছে। কৃষিজমির নিজস্ব বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা তৈরি করবে।
অভিযোগ উঠেছে, ভূমি দপ্তরের কড়া নজরদারির অভাবে অনেকেই ১০ শতক জমির অনুমতি নিয়ে বিঘার পর বিঘা জমি খুঁড়ছেন। যদিও কুমারগঞ্জের বিএলঅ্যান্ডএলআরও (BL&LRO) হিমাদ্রী শেখর মন্ডল জানিয়েছেন, তাঁরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন এবং সম্প্রতি জাখিরপুরে এক লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
এদিকে, গত বছর প্রশাসনিক বৈঠকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নতুন পুকুর খননে স্থগিতাদেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সিপিএম নেতা মোফাজ্জল হোসেনের দাবি, “টাকা দিলেই অনুমতি মিলছে, এটি একটি বড় মাপের দুর্নীতি।”
