উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত বিতর্ক এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (Surya Kant) সঙ্গে দেখা করার যে আবেদন ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট করেছিল, তা সরাসরি খারিজ করে দিলেন প্রধান বিচারপতি। রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের নেতৃত্বে সোমবার বিরোধী জোটের যে সুপ্রিম কোর্ট অভিযান (Supreme Court docket March) ও সাক্ষাতের কথা ছিল, রবিবারই আইনি ও সাংবিধানিক যুক্তি দেখিয়ে সেই আর্জি নাকচ করে দেন তিনি।
সূত্রের খবর, বিরোধী শিবিরের পাঠানো চিঠির জবাবে মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করেছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভোটার তালিকা ও নির্বাচন সংক্রান্ত এই সমস্ত অভিযোগের মামলাগুলি ইতিমধ্যেই দেশের শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাই আদালতের বাইরে এই নিয়ে কোনো প্রশাসনিক আলোচনা করা সম্ভব নয়।
দেশের সাংবিধানিক কাঠামো স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের অভিযোগ বিবেচনা করা বা তার ভিত্তিতে কোনো নির্বাহী পদক্ষেপ করা আদালতের প্রশাসনিক এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।
সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং অন্যান্য আইনি ধারা অনুযায়ী আদালতের বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষমতা রয়েছে। বিরোধীরা যদি এই বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট আবেদন বা পিটিশন দাখিল করেন, তবে নিয়মানুযায়ী পরবর্তী শুনানির দিন তা বিচার্য হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্ট সবসময় দায়বদ্ধ এবং আদালতের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন প্রধান বিচারপতি।
প্রধান বিচারপতির এই বার্তার পর সোমবারের নির্ধারিত ‘চলো দিল্লি’ ও সুপ্রিম কোর্ট অভিযান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর আগে কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী নাগরিক সমাজ ও ছাত্রযুবদের এই কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিলে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সময় চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিচারপতি ‘না’ বলে দেওয়ার পর বিরোধীদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
অন্য দিকে, বিরোধীদের এই কর্মসূচি এবং ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) সম্ভাব্য আন্দোলনের কথা মাথায় রেখে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা বন্দোবস্ত করেছে দিল্লি পুলিশ। নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে দিল্লির মোট ছ’টি মেট্রো স্টেশন সোমবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

