Supreme Court docket elephant hall | কংক্রিটের জঙ্গলে অবরুদ্ধ হাতির করিডর! নির্বিঘ্ন চলাচলে সুপ্রিম নির্দেশে আশার আলো উত্তরবঙ্গে

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


নাগরাকাটা: কংক্রিটের জঙ্গল আর ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের জেরে ক্রমশ অবরুদ্ধ হচ্ছে হাতির স্বাভাবিক চলাচলের পথ। ফলে দিন-দিন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে হাতি-মানুষ সংঘাত। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে হাতির নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court docket elephant hall)। হাতির করিডর নিয়ে কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রককে নতুন করে সমীক্ষা করার নির্দেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত।

গত ১৭ অগাস্ট একটি মামলার অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে হাতির চলাচলের পথ বা করিডর বাধাহীন করার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, করিডর বাধামুক্ত করতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, হাতি তাড়াতে ‘হুলা পার্টি’ বা আগুনের গোলার ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করারও কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মশাল বা অন্য কোনও বলপ্রয়োগমূলক ব্যবস্থা নিষিদ্ধ করতে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, স্ট্যাটাস রিপোর্টে বন ও পরিবেশমন্ত্রককে তা-ও উল্লেখ করতে হবে।

এই নির্দেশের ফলে নতুন করে আশার আলো দেখছে উত্তরবঙ্গ। কারণ, গোটা রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাতির করিডর রয়েছে এখানেই। উত্তরবঙ্গে চিহ্নিত হাতির করিডরের সংখ্যা ১৫। ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার আগের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, রাজ্যে মোট হাতির করিডর রয়েছে ২৬টি, যা দেশের যে কোনও রাজ্যের মধ্যে সর্বাধিক। কিন্তু অভিযোগ, এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে যাওয়ার এই করিডরগুলি ক্রমশ বাড়তে থাকা নগরায়ণ, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও পরিকাঠামো উন্নয়নের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে। ফলে হাতি-মানুষ সংঘাত উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। পরিবেশপ্রেমীরা তাই দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশপ্রেমীরা। প্রাক্তন বনকর্তা বিমল দেবনাথ বলেন, ‘‘হাতির চলাচলের রাস্তাকে ‘হাতি পথ’ হিসেবে নোটিফিকেশন জারির ব্যবস্থা অন্যতম প্রধান একটি পদক্ষেপ হতে পারে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থাপনাও। মানুষ ও হাতির সহাবস্থান থাকবেই। সেটা দ্বন্দ্বহীন করাটাই সবচেয়ে বড় কাজ।’’ পরিবেশপ্রেমী সংগঠন হিমালয়ান নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশন (ন্যাফ)-এর মুখপাত্র ও পরিবেশপ্রেমী অনিমেষ বসুর কথায়, ‘উত্তরবঙ্গের চিহ্নিত করিডরগুলিকে বাধাহীন করতে বন দপ্তর কিছু কাজ শুরু করেছিল। তার মধ্যে রয়েছে চা বাগানের করিডরগুলিকে প্রশস্ত করা। ওই কাজে আরও গতি আনা প্রয়োজন বলে মনে করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দ্রুত করিডরগুলি দিয়ে চলাচল করতে হাতিকে যে সমস্ত প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সে ব্যাপারে রাজ্য আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করবে বলেই মনে করি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *