Supreme Court docket Delhi metro | ‘মাছি মারতে কি হাতুড়ি ব্যবহার করা যায়?’, দিল্লিতে বিক্ষোভের আগে ট্রেন চলাচলে নিষেধাজ্ঞায় কেন্দ্রকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: শনিবার দিল্লিতে পরিকল্পিত বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে মেট্রো এবং রেল পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ করে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court docket Delhi metro)। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বা নিরাপত্তার অজুহাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চাপানো বা গণপরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সাধারণ নাগরিকদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার এবং দৈনন্দিন পরিষেবা পাওয়ার অধিকার সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে যে, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য নিয়ন্ত্রণ বা রেগুলেশন এক জিনিস, আর সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া সম্পূর্ণ অন্য বিষয়। এই প্রসঙ্গে আদালতের পক্ষ থেকে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলা হয়, মাছি মারতে কেউ কখনও হাতুড়ি ব্যবহার করে না। অর্থাৎ, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পরিমিত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, কোনো ধরনের অতিরিক্ত বা কঠোর পদক্ষেপে যেন সাধারণ মানুষ হেনস্তার শিকার না হন।

শুনানিপর্বে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতের এই উদ্বেগের কথা বিবেচনা করে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, সাধারণ নাগরিকদের যাতায়াতে যাতে কোনো রকম অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করতে মেট্রো ও অন্যান্য ট্রেন চলাচলের বিষয়ে একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সেই সিদ্ধান্ত জনগণের অবগতির জন্য ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের সুবিধার্থে সংশোধিত নির্দেশিকা বা অ্যাডভাইজরি প্রকাশেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, বিক্ষোভের আয়োজকরা কে বা কারা কিংবা তাঁদের দাবিদাওয়া কী, তা এই মামলার মূল আলোচ্য বিষয় নয়; বরং বৃহত্তর পরিসরে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, ছাত্রছাত্রী এবং কর্মজীবীরা যারা গ্রেটার নয়ডা কিংবা দক্ষিণ দিল্লি থেকে যাতায়াত করেন, তাঁদের দৈনন্দিন জীবিকা ও চলাচলের সুরক্ষা হওয়াই আদালতের প্রধান উদ্বেগ। সকলের কাছে ব্যক্তিগত গাড়ি বা বিকল্প পরিবহনের সুবিধা থাকে না, ফলে গণপরিবহন ব্যবস্থা আকস্মিক বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষকেই সবচেয়ে বেশি কষ্টের মুখে পড়তে হয়।

দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের (ডিএমআরসি) একটি বিজ্ঞপ্তিতে ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সি বা যাতায়াতের হার কমানোর পাশাপাশি স্টেশন গেট বন্ধ রাখার ঘোষণায় স্বসংঘাত রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ করেছে বেঞ্চ। আদালতের মতে, ফ্রিকোয়েন্সি কমানো হলো একধরনের নিয়ন্ত্রণ, কিন্তু গেট বন্ধ করে দেওয়া হলো সরাসরি নিষেধাজ্ঞা। উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) (CJP) ও অন্যান্য সংগঠনের উদ্যোগে শনিবার যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। এর জেরে পূর্ব সতর্কতা হিসেবে পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে মেট্রোর ৫৭টি স্টেশনের গেট বন্ধ রাখা এবং ট্রেনের যাতায়াত সীমিত করার পাশাপাশি হাওড়া-নয়াদিল্লি ও শিয়ালদহ-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস সহ বেশ কিছু দীর্ঘ দূরত্বের মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যদিও দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জুলাই মাসের সহিংসতার মতো অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের তরফ থেকেও কিছু কড়াকড়ির প্রয়োজনীয়তার কথা আদালতে তুলে ধরা হয়। তবে সাধারণ মানুষের মৌলিক পরিষেবা অক্ষুণ্ণ রেখেই সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *