ইরানকে সেনা দিয়ে ঘিরে ফেললেও আপাতত হামলার কোনও পরিকল্পনা নেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। বৃহস্পতিবার সোশাল মিডিয়ায় এমনটাই জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এই সাময়িক স্বস্তি কতদিন থাকবে তারও বিস্তারিত তথ্য পেশ করে ট্রাম্প জানালেন, আগামী মাসে আমেরিকায় ‘মিডটার্ম ইলেকশন’ বা মধ্যবর্তী নির্বাচন। ফলে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ইরানে কোনও রকম হামলা করা হবে না।
সোশাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। আমি সকলের কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিতে চাই যে, ইরান অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের উপর যে অবরোধ চলছে তা পূর্ণমাত্রায় জারি থাকবে। ৩ নভেম্বর আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এই সময়কালের মধ্যে ইরানের উপর আমরা কোনওরকম হামলা চালাব না। আমাদের নীতি স্পষ্ট যে, ইরানের কাছে কোনও পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’
আরও পড়ুন:
ট্রাম্প জানালেন, আগামী মাসে আমেরিকায় ‘মিডটার্ম ইলেকশন’ বা মধ্যবর্তী নির্বাচন। ফলে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ইরানে কোনও রকম হামলা করা হবে না।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে আমেরিকা ও ইজরায়েল। যুদ্ধের মাস খানেক পরই জল্পনা শুরু হয়েছিল ইরানের মাটিতে সেনা নামিয়ে অভিযান শুরু করতে চলেছে আমেরিকা। যদিও পরবর্তী সময়ে সে সম্ভাবনা ঠাণ্ডা ঘরে চলে যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সে জল্পনা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সংঘর্ষবিরতির যাবতীয় সম্ভাবনা একে একে বাতিল হওয়ার পর ইরানকে ঘিরে ফেলতে শুরু করল আমেরিকা। আরব সাগরে ২টি বিমানবাহী রণতরী পাঠানো হয়েছিল আগেই, সম্প্রতি আরও এক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট সেখানে পাঠানো হয়েছে। সবমিলিয়ে ৩ বিমানবাহী রণতরীর সঙ্গে সমুদ্রে মোতায়েন করা হয়েছে অন্তত ২০ হাজার নৌসেনা।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুযুধান দুই পক্ষের আলোচনার পর ইরানের তরফে যে শর্ত দেওয়া হয়েছিল তা খারিজ করা হয়েছে বলে জানায় আমেরিকা। পাশাপাশি কড়া সুরে ট্রাম্প হুমকি দেন ধ্বংস করে দেওয়া হবে ইরানকে। পালটা প্রস্তুতি শুরু করেছে ইরানও। নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আইআরজিসিকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। তেহরান সতর্ক করেছে, আমেরিকার যে কোনও উস্কানি বা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের চেষ্টা হলে কড়া জবাব দেওয়া হবে। এই পরিস্থিতির মাঝেই ইরানকে সাময়িক স্বস্তি দিল আমেরিকা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
