উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় এবং সহপাঠীদের তাতে যোগ দেওয়ার জন্য উস্কানির অভিযোগে গ্রেটার নয়ডার এক আইনের ছাত্রকে নোটিশ পাঠিয়েছিলেন গ্রেটার নয়ডার এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। এই ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
বুধবার প্রধান বিচারপতির এজলাসে বিষয়টি উত্থাপন করেন আইনজীবী বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। আদালতে জানানো হয়, গত ৪ সেপ্টেম্বর গৌতমবুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের কুড়ি বছর বয়সি আইনের ছাত্র অক্ষত ত্রিপাঠীকে ‘সরকারবিরোধী প্রচার’ এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার অভিযোগে ওই নোটিশ ধরানো হয়েছিল। গ্রেটার নয়ডা জোনে পুলিশ কমিশনারেটের অধীনে থাকা ওই ম্যাজিস্ট্রেটের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘‘এক জন ম্যাজিস্ট্রেট কীভাবে এ ধরনের নোটিশ জারি করার সাহস পান?’’
প্রধান বিচারপতি মনে করিয়ে দেন, এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ওই ঘটনায় অন্য কোনও রাজ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করা যাবে না বা জবরদস্তি কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না। বিক্ষোভে যোগ দেওয়াকে আইনের চোখে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। সেই নির্দেশ অমান্য করায় বিস্ময় প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম যে, কোনও পড়ুয়ার বিরুদ্ধে জবরদস্তি কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না। কোনও ম্যাজিস্ট্রেটই সেই নির্দেশ লঙ্ঘন করতে পারেন না। আমাদের নির্দেশ অমান্য করার সাহস কারও নেই।’’
যদিও সমালোচনার মুখে পড়ার আগেই গত ৫ সেপ্টেম্বর ওই নোটিস প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অপরাধে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলাশাসকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
প্রসঙ্গত, গ্রেটার নয়ডা জোনে পুলিশ কমিশনারেটের অধীনেই রয়েছেন এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।

