BJP | এবিভিপি-তে কাঁটা বুঝেও চুপ পদ্ম

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


গৌতম সরকার

শাঁখের করাতের দশা বিজেপির (BJP)। বিশৃঙ্খলায় নাম জড়াচ্ছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) (ABVP)। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ- একের পর এক ঘটনা। হামলা তো বটেই, অগ্নিসংযোগও। রাজ্যে এখন বিজেপি রাজ। কিন্তু কোনও ঘটনার দায় নিচ্ছে না শাসকদল। প্রশ্ন করলে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য পর্যন্ত বলছেন, এবিভিপি’র সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নেই। এবিভিপি তাঁদের ছাত্র সংগঠন নয়।

বিশৃঙ্খলায় সায় নেই বলে শমীকরা প্রকাশ্যে মন্তব্য করছেন বটে, কিন্তু একটি হামলার ঘটনাতেও বিজেপি সরকার পদক্ষেপ করেনি। করার উপায় নেই। এবিভিপি যে সংঘ পরিবারের সংগঠন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) (RSS) ছাত্র সংগঠন বলে পরিচিত। ফলে সাধারণ মানুষের মনে এসব হামলার খারাপ প্রভাব পড়লেও বিজেপি নেতাদের ঠোঁটে আঙুল। ঘরোয়া আলোচনায় দলের কেউ কেউ অবশ্য মানছেন, এবিভিপি’র জন্য বিজেপির ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে।

ভিন্নমতও আছে। বিজেপির জলপাইগুড়ির এক জেলা নেতার কথায়, ‘জেন জেড এখন আমাদের দল ও আরএসএসের টার্গেট। একেবারে কলেজ স্তর থেকে তরুণ প্রজন্মকে হিন্দুত্বে টেনে আনার ভার দেওয়া হয়েছে। সেই কাজ করতে গিয়ে এবিভিপি কখনো-কখনো জোরজবরদস্তি করে ফেলছে। তাতে কিছু খারাপ হচ্ছে বুঝতে পারলেও আমাদের বলা বা করার কিছু নেই।’ যেটুকু বলপ্রয়োগ হচ্ছে, তাতে আরএসএসের সায় আছে বলে সংঘ পরিবারে কান পাতলে বোঝা যাচ্ছে।

নির্বাচনি ফলাফলের ভিত্তিতে উত্তরবঙ্গের মাটিতে গেরুয়া প্রভাব যথেষ্ট। সেই শক্ত মাটিতে নবীন প্রজন্মের মধ্যে হিন্দুত্বের বীজ বপন করার দায়িত্ব এবিভিপি’র ঘাড়ে। সেই কাজ করতে গিয়ে কলেজ স্তরে বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলিকে নির্মূল করার পথে এগোচ্ছে সংঘের ছাত্র সংগঠনটি। সেই লক্ষ্যপথে বাংলায় প্রধান বিরোধী দল তৃণমূলের বাধা তত নেই, যত আছে বামেদের। কেননা, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যত হাওয়া হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের ছাত্র সংগঠন।

শক্তি তত না থাকলেও যেটুকু বাধা দেওয়ার যায়, চেষ্টা করছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। সেই সংগঠনগুলির মধ্যে শক্তির বিচারে উল্লেখ করার মতো আছে এসএফআই ও ডিএসও। এসইউসিআইয়ের ছাত্র সংগঠন ডিএসও’র তৎপরতা অবশ্য মুষ্টিমেয় কয়েকটি কলেজে। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এবিভিপি’র টার্গেট এখন এসএফআই। কোথাও কোথাও সেই প্ররোচনায় শামিল হচ্ছে বিজেপির যুব বাহিনী।

সেসব ক্ষেত্রে বিজেপির যুব বাহিনী ও এবিভিপি মিলে যাচ্ছে। সোমবার জলপাইগুড়ি শহরে সিপিএমের জেলা দপ্তরে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর সূত্রপাত হয়েছিল জলপাইগুড়ি ল’ কলেজে এসএফআইয়ের সঙ্গে এবিভিপি’র বিবাদকে কেন্দ্র করে। সন্ধ্যার পর সেই বিবাদের জের গড়ায় সিপিএম দপ্তরে। প্রায় ১৫০ মিটার দূরে বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা দপ্তর। বিজেপির যুব মোর্চার জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি পলেন ঘোষ ঘটনাটি অস্বীকার করতে পারেননি।

শুধু মন্তব্য করেন, সিপিএম গায়ে পড়ে ঝগড়া করছে। কোচবিহারে অবশ্য গত ২৬ জুলাই সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআইয়ের সভায় সরাসরি হামলার অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। জলপাইগুড়িতে হামলার পর মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকি দেওয়া হচ্ছে, বাড়াবাড়ি করলে এরপর সিপিএমের দপ্তরটিই আর থাকবে না। ফলে যেখানে দলগতভাবে বিজেপি জড়িয়ে যাচ্ছে, সেখানে এবিভিপি’র বিরুদ্ধে দল বা দল পরিচালিত সরকার যে ব্যবস্থা নেবে না- তা স্পষ্ট।
সিপিএম অবশ্য এতে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর সুযোগ পেয়ে গিয়েছে। দপ্তরে হামলার অভিযোগ তুলে সিপিএম মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি জেলাজুড়ে প্রতিবাদ মিছিল করেছে। কলেজ স্তরে এবিভিপি’র সঙ্গে টক্কর দিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া এসএফআই। সিপিএম প্রচার করছে, আদর্শগতভাবে আরএসএসের সবচেয়ে কট্টর বিরোধী বলে এবিভিপি ও বিজেপি তাদের টার্গেট করছে।

কলেজ স্তরে পড়ুয়াদের মধ্যে যাঁরা এবিভিপি’র হিন্দুত্বের প্রচারে সায় দিচ্ছেন না, আক্রান্ত হচ্ছেন তাঁরাও। গত ২৫ জুলাই কোচবিহারের এবিএন শীল কলেজের হস্টেলে ঢুকে আবাসিকদের বেধড়ক মারধরের পিছনে সেটাই কারণ বলে অভিযোগ। এর আগে গত ২৯ জুন জলপাইগুড়ির আনন্দ চন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল এবিভিপি ও এসএফআই। গত ২৯ ও ২০ জুন শিলিগুড়ি কলেজেও মারপিট হয় দুটি ছাত্র সংগঠনের।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে এসএফআই তেমন শক্তিশালী নয়, সেখানে ডিএসও-এর সঙ্গে এবিভিপি’র সংঘর্ষ হয় ২ সেপ্টেম্বর। তৃণমূলের সঙ্গে এবিভিপি’র একটিই গোলমাল হয়েছে জমানা বদলের পর গত ২৫ মে শিলিগুড়ি কলেজে। সেদিন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মী আক্রান্ত হয়েছিলেন। সব ক্ষেত্রেই পুলিশ ছিল কার্যত নীরব দর্শক। কোথাও বাধা দেওয়ার সামান্য চেষ্টা করেনি। কাউকে গ্রেপ্তার করা দূরের কথা। জলপাইগুড়িতে সিপিএম দপ্তরে আগুন লাগানোর অভিযোগ দায়ের হলেও পুলিশ কাউকে ধরেনি।

দপ্তরে আগুন লাগানোর পর জলপাইগুড়িতে এক সিপিএম কাউন্সিলারের বাড়িতেও হামলায় অভিযুক্ত এবিভিপি। দিনের পর দিন এই ধরনের কাণ্ডে এবিভিপি ভবিষ্যতে দলের নির্বাচনি সাফল্যের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে বলে বিজেপির কেউ কেউ শঙ্কিত। কিন্তু এবিভিপি’র মাথার ওপর আরএসএস-এর হাত থাকায় টুঁ শব্দ করার সাহস নেই কোনও বিজেপি নেতার। তবে একান্ত আলাপে অনেকে মানছেন, হিন্দুত্ব প্রসারের নামে এই ‘তাণ্ডব’ বিজেপির পক্ষে বিপদ হয়ে উঠতে পারে। ব্যাপক সন্ত্রাসের কারণে যেরকম পরিণতি হয়েছে তৃণমূলের।

The submit BJP | এবিভিপি-তে কাঁটা বুঝেও চুপ পদ্ম appeared first on Uttarbanga Sambad.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *