উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দেশের বাজারে চিনির দামে ছ্যাঁকা খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ (Sugar value hike)। এক মাসের মধ্যে চিনির গড় খুচরো দাম কেজিতে প্রায় ২৯ শতাংশ বেড়ে ৬৩ টাকার গণ্ডি পেরিয়েছে। স্থানভেদে দাম পৌঁছেছে সর্বোচ্চ ৭৫ টাকায়। আচমকা এই মূল্যবৃদ্ধির পর চিনির মজুতদারি রুখতে এবার কড়া পদক্ষেপ করল কেন্দ্র (Curb Hoarding)।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক অপরিশোধিত চিনি আমদানির নিয়মে (Sugar Import Guidelines) বড় সংশোধনী এনেছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিদেশ থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত চিনি প্রক্রিয়াজাত করে আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশীয় বাজারে বিক্রি করা বাধ্যতামূলক। আগে অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হলেও, ব্যবসায়ীরা যাতে অপরিশোধিত বা পরিশোধিত চিনি জমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারেন, তাই এই নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে উৎসবের মরশুমে চাহিদা মেটাতে ১০ লক্ষ টন চিনি আমদানির অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সফট ড্রিংকস-আইসক্রিম প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির ওপর মজুতদারির সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিল সরকার। সেই সঙ্গে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব ধরনের চিনি রপ্তানিতেও নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।
তবে ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (ISMA)-এর দাবি, দেশে চিনির কোনও ঘাটতি নেই। যদিও অতিবৃষ্টি ও পোকার আক্রমণের কারণে চিনির উৎপাদন ৩৪৩ লক্ষ টন থেকে কমে ৩০৬ লক্ষ টন হতে পারে বলে জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রক।
এদিকে বিরোধী দলগুলি ইথানল মিশ্রণ নীতিকেই চিনি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী করেছে। তবে কেন্দ্রীয় খাদ্য সচিব সঞ্জীব চোপড়া এই অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছেন, ইথানল নীতি চিনি শিল্পের আর্থিক সংকট দূর করেছে এবং কৃষকদের সময়মতো প্রাপ্য মেটাতে সাহায্য করেছে। সরকারের এই নতুন বিধিনিষেধের ফলে দ্রুত বাজারে চিনির সরবরাহ বাড়বে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

