উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারের ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে ভুয়ো জবকার্ড বাতিল এবং দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তারি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিনটি অর্থবর্ষে ভুয়ো জবকার্ড বাতিলে দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের স্থান অনেক নীচে। এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।
কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে দেশজুড়ে মোট ৭ লক্ষ ৫৯ হাজার ৩৬২টি ভুয়ো জবকার্ড বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে একা উত্তরপ্রদেশেই বাতিল হয়েছে ২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৩৫৪টি জবকার্ড। একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গে বাতিল হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ২৬৩টি জবকার্ড। পরবর্তী অর্থবর্ষ, ২০২৩-২৪-এ উত্তরপ্রদেশে বাতিল হয় ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৩৯৭টি জবকার্ড, যেখানে বাংলায় এই সংখ্যা ছিল ৭১৯টি। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সারা দেশেই বাতিলের সংখ্যা কমে আসে। উত্তরপ্রদেশে বাতিল হয় ৩ হাজার ৪২১টি, আর বাংলায় মাত্র দুটি জবকার্ড বাতিল হয়। শুধু উত্তরপ্রদেশই নয়, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড়, ওডিশা, রাজস্থানের মতো রাজ্যগুলিও ভুয়ো জবকার্ড বাতিলের সংখ্যায় বাংলার চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে।
উল্লেখ্য, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষ থেকেই ১০০ দিনের কাজের টাকা পশ্চিমবঙ্গে বন্ধ রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি ২১ জুলাইয়ের সভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ১০০ দিনের কাজ-সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা নিয়ে সরব হন। তাঁদের প্রশ্ন, যখন অন্য রাজ্যে বাংলার চেয়ে বহুগুণ বেশি ভুয়ো জবকার্ড বাতিল হয়েছে, তখন সেই রাজ্যগুলিতে বরাদ্দ বন্ধ না করে শুধু বাংলায় কেন বন্ধ রাখা হয়েছে?
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল সাংসদ মালা রায়ের লোকসভায় উত্থাপিত প্রশ্নের লিখিত জবাবেই কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী কমলেশ পাসোয়ান এই পরিসংখ্যান দিয়েছেন। তবে, কোন রাজ্যে কতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন, সেই তথ্য কেন্দ্র জানায়নি।কেন্দ্রের এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পর তৃণমূলের বঞ্চনার অভিযোগ আরও তীব্র হয়েছে। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে ভুয়ো জবকার্ডের পাহাড় ছিল, বাংলার সংখ্যা নগণ্য। একদিকে বিজেপি বাংলায় কাজ করলে শ্রমিকদের টাকা দিচ্ছে না, আবার কাজের জন্য অন্য রাজ্যে গেলে বাংলাভাষীদের ‘বাংলাদেশি’ বলছে। এর থেকেই স্পষ্ট বিজেপি বাংলা-বিরোধী।”
এর পালটা জবাবে বিজেপি মুখপাত্র তরুণজ্যোতি তিওয়ারি অবশ্য বলেছেন, “বরাদ্দ বন্ধের কারণ শুধু ভুয়ো জবকার্ড নয়। এই প্রকল্পগুলিতে প্রতিটি রাজ্যকে কেন্দ্রের কাছে হিসাব পেশ করতে হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেটাই করেনি। সঠিক হিসাব পেশ করলে নিশ্চয়ই টাকা পাবে।”
উল্লেখ্য, ১০০ দিনের কাজ নিয়ে সিপিএমের গণসংগঠন ‘পশ্চিমবঙ্গ খেতমজুর সমিতি’র একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাই কোর্ট গত মাসে কেন্দ্রীয় সরকারকে আগামী ১ অগাস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে আবার ১০০ দিনের কাজ নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, ১০০ দিনের কাজ শুরু করার জন্য কেন্দ্র যে কোনও শর্ত আরোপ করতে পারবে, কিন্তু কোনওভাবেই যেন কাজ আটকে না থাকে।
