উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আইনি জট এবং প্রশাসনিক নানা জটিলতার প্যাঁচে ফের থমকে গেল বহু প্রতীক্ষিত ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া (Instructor Recruitment West Bengal)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা অসম্ভব হয়ে পড়ায়, সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Courtroom) কাছে আরও আট মাস অর্থাৎ আগামী বছরের ৩১ মে পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এবং রাজ্য সরকার। সোমবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সচিন সচদেবার বেঞ্চে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ‘অ্যানসার কি’ প্রকাশের পরেই নজিরবিহীন বিপাকে পড়তে হয় এসসিএসসিকে। পরীক্ষার্থীদের তরফ থেকে প্রায় ১ লক্ষ ২৯ হাজার ত্রুটি সংশোধনের আবেদন জমা পড়ে। এই বিপুল পরিমাণ অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষ রিভিউ কমিটি গঠন করতে হয়। পাশাপাশি, ৫ লক্ষেরও বেশি ওএমআর শিট নিখুঁতভাবে স্ক্যান করতে গিয়ে তিন দফায় প্রক্রিয়া চালাতে হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতা— রাজ্য নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কমিশনের চেয়ারম্যান এবং পাঁচটি জোনের শীর্ষ আধিকারিকদের পদত্যাগ প্রক্রিয়াকে আরও শ্লথ করে দেয়।
নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার পিছনে আদালতের সাম্প্রতিক রায়ও একটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বেঞ্চ পূর্বতন আমলের সমস্ত ওবিসি-এ ও ওবিসি-বি শংসাপত্র বাতিল করে সাধারণ শ্রেণিভুক্ত করার নির্দেশ দেয়। এই নীতিগত কোপে পড়ে সংরক্ষণ নীতি নিয়ে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করতে হচ্ছে কমিশনকে, যা নিয়োগের অন্তিম রূপরেখা তৈরিতে অতিরিক্ত সময়ের দাবি তুলেছে।
নবম-দশম শ্রেণিতে ২ লক্ষ ৯৩ হাজার এবং একাদশ-দ্বাদশে ২ লক্ষ ২৯ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেন। একাদশ-দ্বাদশের ৩৩টি বিষয়ের মধ্যে ২১টির কাউন্সেলিং শেষ করে ইতিমধ্যেই ৩৫৮৬ জনের নাম মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানান, আইনি জটিলতার অজুহাতে আর দেরি না করে দ্রুত যোগ্যদের নিয়োগ সুনিশ্চিত করা হোক। প্রথম দফায় ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর এবং পরে চলতি বছরের ৩১ অগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল শীর্ষ আদালত। সেই বর্ধিত মেয়াদ শেষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ফের অতিরিক্ত সময় চেয়ে করা এই আর্জি শিক্ষক নিয়োগের ভবিষ্যৎকে কতটা দীর্ঘায়িত করে, এখন সেটাই দেখার।

