উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ টানা ৭-৮ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় চরম উত্তেজনার পর সোমবারও থমথমে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI Kolkata Campus Conflict) চত্বর। রবিবারের সংঘর্ষ ও হাঙ্গামার জেরে এখনও প্রতিষ্ঠানের বাইরে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এই ঘটনায় পঞ্চসায়র থানায় মোট তিনটি পৃথক এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতি ও পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়েও মামলা রুজু করেছে। তবে সোমবার সকাল পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।
জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুর একটা নাগাদ আরএসএসের শাখা সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতি’র একটি অনুষ্ঠান ছিল এসআরএফটিআই-এর অডিটোরিয়ামে। অভিযোগ, সেই সময় এসএফআই সমর্থিত পড়ুয়ারা অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে প্রশ্ন তোলেন যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কীভাবে এই ধরনের অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। পড়ুয়াদের দাবি, তাঁদের অন্ধকারে রেখেই এই অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হয়েছিল। উলটে আয়োজকরা তাঁদের ‘জঙ্গি’ ও ‘বাংলাদেশি’ বলে কটূক্তি করেন। এর প্রতিবাদ করলে পড়ুয়াদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে দাবি আয়োজকদের।
এই খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কলেজ চত্বরে একদিকে ‘জয় শ্রীরাম’, ‘জয় ভীম’ এবং অন্যদিকে ‘আজাদি’ স্লোগান উঠতে থাকে। দুই পক্ষের হাতাহাতিতে বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী গুরুতর জখম হন। ছাত্রীরাও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ।
খবর পেয়ে ডিসিপির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কিন্তু অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই দফায় দফায় সংঘর্ষ ও তাণ্ডব চলতে থাকে। জখম পড়ুয়াদের উদ্ধারে আসা একটি অ্যাম্বুল্যান্সকেও আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। পরে দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনার পর পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় অনুষ্ঠান আয়োজকদের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। যদিও ডিসি ইস্ট জানিয়েছেন, আইন মেনেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে থমথমে পরিবেশে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কড়া নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

