উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দিল্লি পুলিশের হস্তক্ষেপে যন্তরমন্তর থেকে সরানোর পর বর্তমানে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। তবে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টের স্বচ্ছতা (Medical Care) নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে. আংমো (Gitanjali J Angmo)।
শনিবার তিনি অভিযোগ করেন বলেন, ‘হাসপাতালে সোনমকে শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। আমরা আসলে বাইরের কোনও ল্যাবরেটরি থেকে পরীক্ষাগুলো করিয়ে নেব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ, আমরা যেসব রিপোর্ট চেয়েছিলাম তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে না। চিকিৎসকরা পটাশিয়ামের যে মাত্রা দেখাচ্ছেন, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। গতকাল যা ৪.৩ ছিল, আজ হঠাৎ কমে ২.৯ হতে পারে না।’
উল্লেখ্য, গত ২০ দিন ধরে চলা সোনম ওয়াংচুকের অনশন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। গীতাঞ্জলি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁর বা পারিবারিক চিকিৎসকদের অনুমতি ছাড়া কোনও প্রকার ওষুধ বা ইনজেকশন দেওয়া যাবে না। তিনি আরও জানান, সোনম ওয়াংচুক এখনও অনশনেই রয়েছেন, কারণ তিনি এখনও কোনও চিনি গ্রহণ করেননি। তাঁর কথায়, ‘সোনম কেবল লবণ-মিশ্রিত জল পান করছেন, যা তিনি আগেও পান করছিলেন।’
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের দাবি, দিল্লি হাইকোর্টের (Delhi Excessive Court docket) নির্দেশ মেনেই স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, একজন নাগরিকের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি। তবে গীতাঞ্জলির পালটা দাবি, আদালত নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কথা বললেও জোরপূর্বক হাসপাতালে ভর্তির কোনও নির্দেশ দেয়নি।
প্রসঙ্গত, নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত ২o দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন সোনম ওয়াংচুক। কিন্তু শনিবার অনশনের ২১তম দিনে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হল হাসপাতালে। আগামী সোমবার সংসদের দিকে পরিকল্পিত পদযাত্রার ঠিক আগেই এই ঘটনা রাজনৈতিক ও জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। গীতাঞ্জলি জানান, সরকারি হস্তক্ষেপে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও তিনি মানসিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ় আছেন। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক জবাবদিহিতার দাবি উঠেছে।

