উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ খেলার মাঠে বহু অসাধ্য সাধন করেছেন এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন (Swapna Barman)। কিন্তু জীবনের কঠিন লড়াইয়ে এবার বাবাকে ধরে রাখতে পারলেন না তিনি। দীর্ঘ অসুস্থতার পর শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন পঞ্চানন বর্মন। বাবার মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছেন রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না।
জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঢিং পাড়া এলাকার বাসিন্দা পঞ্চাননবাবু গত কয়েকদিন ধরেই অত্যন্ত অসুস্থ ছিলেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। গত কয়েকদিন ধরে তিনি ভেন্টিলেশনে ছিলেন। দিনকয়েক আগে তাঁর মৃত্যু নিয়ে গুজব ছড়ালেও পরিবারের তরফে তা অস্বীকার করা হয়েছিল। বাবা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন— এই আশায় ভ্রামরী দেবী মন্দিরে পুজোও দিয়েছিলেন স্বপ্না। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি প্রয়াত হলেন।
একসময় অত্যন্ত অভাবের সংসারে কঠোর পরিশ্রম করে মেয়ের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন পঞ্চানন বর্মন। আজ স্বপ্না দেশের গর্ব হলেও বাবার সেই অবদানের কথা বারবার স্মরণ করেন তিনি। স্বপ্নার এই লড়াইয়ের দিনগুলিতে পঞ্চাননবাবু ছিলেন তাঁর ছায়াসঙ্গী।
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন স্বপ্না বর্মন। দল তাঁকে রাজগঞ্জ আসন থেকে প্রার্থী করেছে। গত বৃহস্পতিবারই মন্দিরে পুজো দিয়ে নিজের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছিলেন তিনি। প্রচারের ব্যস্ততার মধ্যেই বাবার এই মৃত্যু তাঁর কাছে এক বিশাল ধাক্কা। স্বপ্নার পিতৃবিয়োগে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব। দলের প্রতিনিধিরা স্বপ্নার বাড়িতে গিয়ে তাঁর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
রাজগঞ্জের এই ভূমিপুত্রী যখন নতুন রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করতে চলেছেন, তখনই মাথার ওপর থেকে অভিভাবকের হাত সরে যাওয়া জেলা রাজনীতিতেও শোকের আবহাওয়া তৈরি করেছে।
