উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ২৬ দিনের দীর্ঘ অনশন শেষ হওয়ার পর তোলা ছবি প্রকাশ করে (Quick-Ending Images) প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এমনই গুরুতর অভিযোগ তুললেন বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। এই ঘটনা তাঁকে দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি হতাশ করেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াংচুক দাবি করেছেন, মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda) এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের (Jitendra Singh) সঙ্গে তাঁর যে বৈঠক হয়েছিল, তাতে স্পষ্ট শর্ত ছিল যে বিরোধী দল ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে অনশন ভঙ্গের ঘোষণা করা হবে এবং ততদিন কোনও ছবি প্রকাশ করা হবে না।
ওয়াংচুকের অভিযোগ, সমস্ত প্রতিশ্রুতি ভেঙে মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে ছবিগুলি বিভিন্ন নিউজ চ্যানেলে সম্প্রচারিত হতে শুরু করে। গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি)-র আধিকারিকদের এই চুক্তির সাক্ষী রাখা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, শাসকদল এককভাবে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই এই ছবিগুলি প্রকাশ্যে এনেছে।
গোপন চুক্তির সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ওয়াংচুক জানান, দরকষাকষির সুযোগ তাঁর আগেও ছিল। এমনকি তিনি চাইলে মন্ত্রী পদ পাওয়ার মতো অফারও গ্রহণ করতে পারতেন। কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনের পর সরকারের এমন আচরণে রাজনৈতিক নেতাদের ওপর থেকে তাঁর সম্পূর্ণ আস্থা উঠে গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে (NEET protest) গত জুন মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনে বসেছিলেন ৫৯ বছর বয়সি সোনম ওয়াংচুক। অনশন চলাকালীন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তাঁকে সেখানে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। এরপর ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো স্বামীকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবিতে আদালতে আবেদন করার পর, গত ২১শে জুলাই ওয়াংচুককে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনদিন পর জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আশ্বাসের প্রেক্ষিতে এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে গত ২৪ জুলাই গভীর রাতে তিনি তাঁর ২৬ দিনের অনশন ভাঙেন। কিন্তু অনশন ভাঙার সেই মুহূর্তের ছবি যেভাবে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, তা নিয়ে ওয়াংচুক অসন্তোষ প্রকাশ করতেই বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

