Canada vs Bosnia | ফ্যান জোনে আজ থেকেই ভিড়, বসনিয়া ম্যাচের প্রহর গুনছে ডাউনটাউন

Canada vs Bosnia | ফ্যান জোনে আজ থেকেই ভিড়, বসনিয়া ম্যাচের প্রহর গুনছে ডাউনটাউন

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


সন্দীপন রায়, টরন্টো: বৃহস্পতিবার সকালটা অন্য দিনের থেকে অনেকটাই আলাদা। আজ থেকেই মেক্সিকোর ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে শুরু হয়ে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। কিন্তু এখানকার মানুষের মন আজ মেক্সিকোয় নেই, তাদের সব ভাবনা জুড়ে রয়েছে আগামীকাল। শুক্রবারই যে নিজেদের ঘরের মাঠে, চেনা দর্শকদের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ আলফনসো ডেভিসদের (Canada vs Bosnia)

মিসিসগার বাড়ি থেকে প্রতিদিনের চেনা গো-ট্রেন ধরে আজ যখন ইউনিয়ন স্টেশনে নামলাম, চারপাশের দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছিল যেন কোনও কার্নিভালে এসে পড়েছি। ব্যাংকের ডেস্কে আজ আর কর্পোরেট ফাইল বা দেশের অর্থনীতির আলোচনা নেই, সবার মুখেই শুধু মাইকেল বুবলে আর অ্যালানিস মরিসেটের নাম। কারণটা খোলসা করেই বলি। আগামীকাল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে টরন্টো স্টেডিয়ামে হতে চলেছে এক বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। কানাডার প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজনের ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে পারফর্ম করবেন বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা। আর এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে থাকছে ভারতের জোরালো উপস্থিতিও। দর্শকদের মাতাতে মঞ্চে দেখা যাবে বলিউড কাঁপানো নোরা ফতেহিকে। এমন চাঁদের হাট চাক্ষুষ করার জন্য শহরের মানুষ রীতিমতো উন্মুখ।

যাঁরা মাঠে বসে এই অনুষ্ঠান বা খেলা দেখার টিকিট জোগাড় করতে পারেননি, তাঁদের হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই। আজ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে যাচ্ছে ফোর্ট ইয়র্ক ন্যাশনাল হিস্টরিক সাইটের ফিফা ফ্যান ফেস্টিভাল। বিনামূল্যে প্রবেশের এই ফ্যান জোনে আজ রাতেই বড় স্ক্রিনে দেখানো হবে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচটি। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, এই ফ্যান জোনে অন্তত তিরিশটি দেশের নানা সুস্বাদু খাবারের স্টল থাকছে। ফলে দর্শকরা শুধু খেলাই উপভোগ করবেন না, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রসনার স্বাদও নিতে পারবেন। শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও স্পোর্টস পাবগুলিতে, বিশেষ করে ‘বেলফাস্ট লাভ’-এর মতো পরিচিত জায়গাগুলিতে টেবিল বুকিংয়ের ধুম পড়ে গিয়েছে। ভিনদেশি সমর্থকরা ইতিমধ্যেই নিজেদের দেশের জার্সি গায়ে চাপিয়ে রাস্তায় রীতিমতো উৎসব শুরু করে দিয়েছেন।

মাঠের লড়াইয়ের জন্য কানাডা শিবিরও পুরোপুরি তৈরি। ৪৮ দলের নতুন ফর্ম্যাটের এই বিশ্বকাপে জেসি মার্শের ছেলেরা কতটা নজর কাড়তে পারে, সেটাই এখন দেখার। বসনিয়ার মতো ইউরোপীয় ঘরানার দল, যারা রীতিমতো পেশি শক্তির ওপর নির্ভর করে খেলে, তাদের বিরুদ্ধে লড়তে জোনাথন ডেভিড এবং ইসমায়েল কোনের মতো তরুণ ফুটবলারদের ওপর বড় ভরসা রাখছে গোটা দেশ। পাশাপাশি, উইং দিয়ে ডেভিসের ক্ষিপ্রতা যে কোনও মুহূর্তে ম্যাচের রং বদলে দিতে পারে। তবে বিপক্ষের শক্তিশালী স্ট্রাইকারদের আটকাতে কানাডার রক্ষণভাগকে কাল কড়া পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে।

সব দিক থেকেই এই শহর এখন পুরোপুরি ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত। রাস্তায় বেরোলেই বিভিন্ন দেশের পতাকার মিছিল আর সমর্থকদের কোলাহল বুঝিয়ে দিচ্ছে যে উন্মাদনা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে। শহরের আকাশ-বাতাসে এখন শুধুই আগামীকালের রোমাঞ্চ। ঘরের মাঠের বিশাল জনসমুদ্রকে সাক্ষী রেখে কানাডা নিজেদের প্রথম জয় ছিনিয়ে নিতে পারে কি না, সেটাই এখন মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *