উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ দিল্লির যন্তর মন্তরে পরীক্ষা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। শিক্ষা ও পরিবেশকর্মী তথা রামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) অনশন সোমবার ১৬তম দিনে পদার্পণ করল। চিকিৎসকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবক্ষয় ঘটেছে। রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি অনশন শুরুর পর থেকে এ যাবৎ তাঁর শরীরের ওজন প্রায় ৭.৮ কেজি হ্রাস পেয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ সোনম ওয়াংচুকের একটি হেলথ আপডেট শেয়ার করেছেন। রবিবারের পরীক্ষা অনুযায়ী, ওয়াংচুকের রক্তচাপ নেমে দাঁড়িয়েছে ১০৪/৬৬ মিমি এইচজি (mm Hg)-তে।
অভিজিৎ দিপকে কেন্দ্রের মোদী সরকারের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে লিখেছেন: “আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, দয়া করে এটিকে অহংকারের লড়াইয়ে পরিণত করবেন না। এখানে মানুষের জীবন বাজি রেখে লড়াই চলছে।”
একইভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস এক্সে লিখেছেন, “সোনম স্যার আর কতদিন এভাবে টিকে থাকতে পারবেন জানি না। তিনি আমাদের বলছেন তিনি পারবেন, কিন্তু পাশে বসে আমরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছি। দিন দিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।”
গত ২০ জুন থেকে পরীক্ষা দুর্নীতির বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে ধর্না প্রদর্শন শুরু করে সিজেপি। গত ২৮ জুন থেকে সেই আন্দোলনে যোগ দিয়ে অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। সৌরভ দাসের কথায়, “যে মানুষটি অনায়াসে আরাম ও সম্মানের জীবন বেছে নিতে পারতেন, নোবেল সমতুল্য রামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী সেই মানুষটি আজ দেশের তরুণ ও শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য নিজের জীবন বাজি রেখেছেন। যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা এই দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থার বলি হয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে, তাদের ন্যায়বিচারের জন্য তিনি নিজের শরীর উৎসর্গ করছেন।”
রবিবার এই প্রতিবাদ আন্দোলন ২৩তম দিনে পা দিয়েছে। আন্দোলনে সংহতি জানাতে যন্তর মন্তরে উপস্থিত হয়েছিলেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ পুষ্পেন্দ্র সরোজ এবং কেরলের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা।
উল্লেখ্য, ‘নিট’ (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর থেকে সিজেপি-র মূল দাবি দুটি:
- কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ।
- পেপার লিক ও দুর্নীতির জেরে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান।
সরকার কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ না করায়, আগামী ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই দলমত নির্বিশেষে এক বিশাল ‘সংসদ অভিযান’ বা পার্লামেন্ট মার্চের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

